ব্যালন ডি’অর জেতার সুযোগ নিয়ে যা বললেন জর্জিনহো

ইতালির এই মিডফিল্ডার প্রতিভার বিচারে নিজেকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে ফেলছেন না। তবে তিনি বলেছেন, এবার তার মতো সাফল্য পাওয়া আর কোনো খেলোয়াড় খুঁজে বের করা কঠিন হবে।
jorginho
ছবি: টুইটার

২০২১ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে লিওনেল মেসিকে। সম্প্রতি তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জর্জিনহো। ইতালির এই মিডফিল্ডার প্রতিভার বিচারে নিজেকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে ফেলছেন না। তবে তিনি বলেছেন, এবার তার মতো সাফল্য পাওয়া আর কোনো খেলোয়াড় খুঁজে বের করা কঠিন হবে।

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ২০২০-২১ মৌসুমের লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন মেসি। এরপর ব্রাজিলের মাটিতে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। তাতে পূরণ হয়েছে তার আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের অধরা স্বপ্ন।

জর্জিনহো সফলতা পেয়েছেন ক্লাব ও আন্তর্জাতিক- উভয় পর্যায়েই। ইংলিশ ক্লাব চেলসির হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতার পর ইউরোতে ইতালির শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাই অনেকেই তাকে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন। সেই তালিকায় আছেন চেলসি ও জুভেন্টাসের সাবেক কোচ মরিজিও সারিও।

মঙ্গলবার পর্তুগিজ গণমাধ্যম স্পোর্ত টিভির সঙ্গে ব্যালন ডি’অর জয়ে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন জর্জিনহো। স্বপ্ন দেখলেও কোন মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননাটি দেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

‘আমাদের সবার স্বপ্ন আছে। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, যে মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এটা তার ওপর নির্ভর করে।’

‘যদি আমরা প্রতিভা নিয়ে কথা বলি, তাহলে আমি জানি, আমি বিশ্বের সেরা নই। তবে যদি এটা শিরোপার ভিত্তিতে দেওয়া হয়, তাহলে এই মৌসুমে আমার চেয়ে বেশি কেউ জেতেনি।’

‘আমি কীভাবে নিজেকে মেসি, নেইমার বা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করতে পারি? তাদের সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে, আমি আবারও বলছি, এটা মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে।’

জর্জিনহোর জন্ম ব্রাজিলে হলেও কৈশোরে চলে আসেন ইতালি। এরপর বয়সভিত্তিক স্তর পেরিয়ে আজ্জুরিদের হয়ে নিয়মিত খেলছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে। দুই দলের একটিকে বেছে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল? ২৯ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, সঙ্গত কারণে সিদ্ধান্তটি নিতে দোটানায় পড়েননি তিনি।

‘আমি দ্বিতীয়বার ভাবিনি। অনূর্ধ্ব-২১ দলের প্রতিনিধিত্ব করার পর আমি ইতালির হয়ে কেবল কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম। তারপর ২০১৭ সালের নভেম্বরে আমাকে সুইডেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের জন্য ডাকা হয়েছিল।’

‘তখন ব্রাজিলও আমাকে চেয়েছিল। শৈশব থেকে ব্রাজিলের হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, ইতালির সাহায্য দরকার। আর আমারও যখন সাহায্যের দরকার ছিল, তখন তারা দুয়ার খুলে আমাকে জড়িয়ে নিয়েছিল।’

Comments