চাঁদপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে দুটি ডক্টরস সেফটি চেম্বার

চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যক্তি উদ্যোগে দুটি ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পিপিই, এন-৯৫ মাস্ক, ফেস গগলস, হ্যান্ডস গ্লাভস প্রদান করা হয়েছে। ফলে, এ দুটি হাসপাতালের করোনা ঝুঁকি কমেছে।
ছবি: আলম পলাশ

চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যক্তি উদ্যোগে দুটি ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পিপিই, এন-৯৫ মাস্ক, ফেস গগলস, হ্যান্ডস গ্লাভস প্রদান করা হয়েছে। ফলে, এ দুটি হাসপাতালের করোনা ঝুঁকি কমেছে।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুজাউদৌলা রুবেল বলেন, ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপনের কারণে আমাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি রোগীরাও সুরক্ষিত থাকবে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ২৭৩ জনের করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।’

সেবা নিতে আসা চাঁদপুর স্টেডিয়াম রোডের কামরুল হোসেন বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে আমি ডক্টরস সেফটি চেম্বারের মাধ্যমে  করোনা নমুনা পরীক্ষা করাই। এখন রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশ্রাফ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা করোনা সংক্রান্ত রোগী ছাড়াও সব ধরনের রোগীকে এই ডক্টরস সেফটি চেম্বারের মাধ্যমেই সেবা দিচ্ছি। যাতে তারা নিরাপদ থাকেন।’

ফরিদগঞ্জের ব্যবসায়ী সাজ্জাদ রশিদ সুমন ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেন। গত শনিবার চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং  চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিবুল করিম ডক্টরস সেফটি চেম্বারের উদ্বোধন করেন। এ সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. সুজাউদৌলা রুবেলসহ অন্যান্য চিকিৎসকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সাজ্জাদ রশিদ সুমন বলেন, ‘আমি মনে করি করোনা মোকাবিলায় ডাক্তার এবং নার্সগণ প্রথম সারির যোদ্ধা। আর এই যুদ্ধে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে অনেক চিকিৎসক ও সহকারীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি আমি ফরিদগঞ্জের সন্তান ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর মাধ্যমে জানতে পেরে এই উদ্যোগে গ্রহণ করি। যাতে চিকিৎসক ও রোগীরা নিরপাদ থাকেন। তাছাড়া চাঁদপুর এবং ফরিদগঞ্জে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা উপকরণেরও ঘাটতি রয়েছে। তাই আমার সুযোগ হয়েছে আমেরিকায় বসে স্বল্প ব্যয়ে নিজ জেলায় করোনা মোকবিলায় কিছু করার। তাই রোগীদের সেবা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে এটি করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ‘রোগীর সেবা এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এমন মানবিক কাজে পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য সাজ্জাদ রশিদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। এতে করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের চিকিৎসকরা আরও অনুপ্রাণিত হয়েছেন।’

Comments

The Daily Star  | English

Year-long waterlogging, endless misery

If one visits Government Teachers’ Training College in Chawk Bazar area, they will notice a field inundated by water, entrances and ground floors of male and female hostels submerged, and hyacinths growing everywhere on the waterlogged premises.

16h ago