করোনা মহামারির মধ্যেও দর্শনার্থী বাড়ছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

করোনাভাইরাস মহামারি ও শীতের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্কের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে ছুটে আসছেন তারা। তবে, শীতের কারণে পার্কের বিশেষ প্রাণীদের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।
Bangabondhu Safari Park.jpg
কেউ সপরিবারে আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পার্কের প্রাণী বৈচিত্র্য পরিদর্শন করতে এসেছেন। ছবি: স্টার

করোনাভাইরাস মহামারি ও শীতের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্কের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে ছুটে আসছেন তারা। তবে, শীতের কারণে পার্কের বিশেষ প্রাণীদের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পার্ক এলাকা ঘুরে টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। পার্কের পক্ষ থেকে বাধ্যবাধকতা থাকায় দর্শনার্থীরা মাস্ক পরেই পার্কে প্রবেশ করছেন। পার্কের মূল গেট থেকেই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কেউ সপরিবারে আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পার্কের প্রাণী বৈচিত্র্য পরিদর্শন করতে এসেছেন।

পাবনা জেলার হেমায়েতপুর থেকে পাবনা সরকারি বুলবুল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রনি খান ও পাবনা পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থী নাসিম উদ্দিনসহ ১৩ জন বন্ধু আজ বেলা ১১টার দিকে পার্কে এসে পৌঁছান। স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা পার্ক পরিদর্শন করেন।

তারা জানান, করোনা মহামারির মধ্যেও সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের অভাব নেই। প্রাণী বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করতে উৎসাহী মানুষকে মহামারি করোনা ও শীতের প্রভাব বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার খন্দকারটুলা গ্রামের ৫২ জনের একদল গ্রামবাসী একটি বাসে করে পার্ক পরিদর্শন করতে আসেন।

দর্শনার্থী জিয়াউর রহমান ও রাব্বি জানান, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন পার্ক এলাকা ছিল দর্শনার্থীশূণ্য। পার্কের ভেতরে গাছপালা, তরুলতা দেখে মনে হয়েছে, তারা যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছে। পশু-পাখিগুলো দেখে মনে হয়েছে, তারাও মানুষের বিচরণ থেকে কয়েক মাস আলাদা হয়ে যেন বনে ফিরে গিয়েছিল।

ইউনিক মেঘনা ঘাটের প্রকৌশলী মো. হুজাইফা জানান, তিনি সপরিবারে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। জিরাফ, জেব্রা, ভাল্লুকের দেখা মিললেও বিশেষ বেষ্টনীতে থাকা বাঘ ও সিংহের দেখা পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও, বিশেষ বেষ্টনীতে গাড়ি চড়ার সময় সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

টুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান জানান, গত শুক্রবার দুই হাজারের বেশি দর্শনার্থী ছিল। পার্ক খুলে দেওয়ার খবর প্রচার হলে দর্শনার্থী আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আজ দর্শনার্থী সংখ্যা আরও বেশি হবে। সন্ধ্যায় এর সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, করোনা মহামারির কারণে পার্কটি লকডাউনের আওতায় ছিল। চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি নির্দেশে এটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মহামারির মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসছে। এ সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন পার্ক খোলা আছে। বিশেষ করে দিনের বেশিরভাগ সময় বাঘ ও সিংহ সুবিধাজনক স্থানে ঘুমিয়ে কাটায়। সে কারণে কোনো কোনো সময় এগুলো দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে না।

Comments

The Daily Star  | English
no fire safety measures at the building on Bailey Road

No fire safety measures despite building owners being notified thrice: fire service DG

There were no fire safety measures at the building on Bailey Road where a devastating fire last night left at least 46 people dead, Fire Service and Civil Defence Director General Brig Gen Md Main Uddin said today

1h ago