নাটকীয় লড়াইয়ে দুর্দান্ত সরফরাজে ম্যাচ বাঁচাল পাকিস্তান

শেষদিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না মোটেও। বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগের দিন রানের খাতা খোলার আগেই তারা হারিয়েছিল দুই উইকেট। শেষ দিনের প্রথম সেশনে আরও তিন উইকেট হারিয়ে ফেললে হারের শঙ্কা ভর করে বাবর আজমদের ওপর। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে ত্রাতা রূপে আবির্ভূত হলেন সরফরাজ আহমেদ, তার লড়াকু সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচাল পাকিস্তান।

শেষদিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না মোটেও। বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগের দিন রানের খাতা খোলার আগেই তারা হারিয়েছিল দুই উইকেট। শেষ দিনের প্রথম সেশনে আরও তিন উইকেট হারিয়ে ফেললে হারের শঙ্কা ভর করে বাবর আজমদের ওপর। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে ত্রাতা রূপে আবির্ভূত হলেন সরফরাজ আহমেদ, তার লড়াকু সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচাল পাকিস্তান।

শুক্রবার করাচি টেস্টের পঞ্চম দিনে ড্রয়ের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের। ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দিনভর ব্যাট করে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ৩০৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। মাইকেল ব্রেসওয়েলের দারুণ বোলিংও জয় এনে দিতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। অথচ দিনের প্রথম সেশন শেষেও চালকের আসনেই ছিল সফরকারীরা। সেঞ্চুরিয়ন সরফরাজকে তুলে নিলেও শেষ উইকেটটি আর শিকার করতে পারেনি কিউইরা। যথাক্রমে ১০ ও ১১ নম্বরে নামা নাসিম শাহ ও আবরার আহমেদ হতাশ করেন তাদের।

দিনের প্রথমভাগে দলীয় ৩৫ রানে আগের দিন অপরাজিত থাকা ইমাম-উল-হককে তুলে নেন ইশ সোধি। ১২ রান আসে এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে। খানিক বাদে দলকে বিপদে রেখে ফিরে যান অধিনায়ক বাবরও। ডানহাতি স্পিনার ব্রেসওয়েলের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ২৭ রান করেন তিনি। বাবরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এক ওভার বাদে ফিরে যান শান মাসুদও। তার ৬৬ বলে করা ৩৫ রানের ইনিংসের ইতি টানেন এই ব্রেসওয়েলই।

মাত্র ৮০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত হার দেখছিল তখন পাকিস্তান। সেখান থেকেই খেলার চিত্র বদলানো শুরু করেন সরফরাজ। সৌদ শাকিলকে নিয়ে গড়েন ১২৩ রানের জুটি। সরফরাজ ফিফটি তুলে নিলেও ১৪৬ বলে ৩২ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংস খেলে ড্যারিল মিচেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শাকিল। এবারও ঘাতক সেই ব্রেসওয়েল। সপ্তম উইকেটে আগা সালমানের কাছ থেকেও সমর্থন পান সরফরাজ, নিরিবিচ্ছিন্ন থেকে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান যোগ করে এই জুটি।

৭৩তম ওভারে ম্যাট হেনরির বলে দুই রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন সরফরাজ। দিনের খেলা তখন শেষ সেশনে, দুই পাক ব্যাটারই সেট ছিলেন উইকেটে। ফলে ম্যাচ কিছুটা একপেশে হয়ে পড়েছিল পাকিস্তানের দিকে। তার ওপর জয়ের জন্য সালমান ব্যাট করছিলেন ওয়ানডে মেজাজে। কিন্তু তখনই আঘাত হাতে ব্ল্যাক ক্যাপসরা, ৪০ বলে ৩০ রান করে হেনরির বলে বোল্ড হয়ে যান সালমান। আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে নিউজিল্যান্ড।

এরপর তিন টেল এন্ডারকে নিয়ে শুরু হয় সরফরাজের লড়াই। সুযোগ বুঝে চেপে ধরে কিউইরা, দ্রুতই হাসান আলিকে ফেরান টিম সাউদি। ৮৭তম ওভারে পাকিস্তানের রান যখন ২৮৭, তখনই সরফরাজের মহাগুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন ব্রেসওয়েল। কেইন উইলিয়ামসন ক্যাচ নিলে ইতি ঘটে ১৭৬ বলে নয় চার এক ছক্কায় করা ১১৮ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংসের। এই উইকেট শিকার করে জয়ের সুবাতাস পেতে থাকে নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু ক্রিকেট বিধাতা লিখে রেখেছিলেন ভিন্ন কিছু। সরফরাজের পরিশ্রম বৃথা যেতে দিলেন না নাসিম-আবরার জুটি। মাত্র ২১ বলে ১৭ রান যোগ করে তারা কাটিয়ে দেন দিনের বাকিটা সময়। নিশ্চিত জয় তুলে নিতে না পারায় হতাশ হতে হয় কিউইদের।

Comments

The Daily Star  | English

Coastal villagers shifted to LPG from Sundarbans firewood

'The gas cylinder has made my life easy. The smoke and the tension of collecting firewood have gone away'

1h ago