মূল্যছাড়ের লোভ দেখিয়ে শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে প্রতারণা

বোরহান উদ্দিন নিজেকে দুবাই বা কাতারে বসবাস করা একজন বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বলতেন তিনি একটি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করছেন।
প্রতীকী ছবি

বোরহান উদ্দিন নিজেকে দুবাই বা কাতারে বসবাস করা একজন বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বলতেন তিনি একটি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করছেন।

তিনি প্রথমে দুবাই বা কাতারের সিম ব্যবহার করে একটি হোয়াটস অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যোগ দেন। এরপর ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি কীভাবে ছাড়কৃত মূল্যে কেনা মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বিমান টিকিট পেয়েছেন, সে ব্যাপারে গ্রুপগুলোতে পোস্ট দেন। আর ওই টিকিটগুলো অগ্রিম ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে কেনার জন্য গ্রাহকদের আহ্বান জানান।

একবার কোনো ক্রেতা পাওয়া গেলে বোরহান তার স্ত্রী হুমায়রা আক্তার মুন্নির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলতেন এই বলে যে, তিনি বাংলাদেশে থাকেন। এ জন্য মাঝে মাঝে তিনি তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের (এমএফএস) নম্বরও দিতেন।

তবে আগ্রহী ক্রেতা টাকা জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরহান তার হোয়ারটস অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে অন্য কারো সঙ্গে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর আগে অদৃশ্য হয়ে থাকতেন।

গত ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামের সানকানিয়া এলাকা থেকে বোরহানকে গ্রেপ্তারের পর এসব কথা জানতে পারে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ও বিশেষ অপরাধ বিভাগ।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তারা অভিযান চালিয়ে বোরহানকে গ্রেপ্তার করেছেন।

তিনি বলেন, 'বোরহান গত ৫ বছর ধরে এই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। আমরা জানতে পেরেছি, তিনি এই পর্যন্ত শতাধিক ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে এ প্রতারণা করেছে।'

বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বোরহানকে গ্রেপ্তারে ট্রাভেল এজেন্টদের একটি গ্রুপ ২ লাখ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। এই ঘোষণার একটি অনুলিপি ডেইলি স্টারের হাতে এসেছে।

এত সংখ্যক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সত্ত্বেও পুলিশ বোরহানের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মাত্র মামলা খুঁজে পেয়েছে।

ওই মামলার অভিযোগ অনুসারে, গত ৭ আগস্ট একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী একটা বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পান।

ওই মেসেজে বলা হয়, 'সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর। কোভিড-১৯ এর জন্য একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেবল দুবাই থেকে এর টিকিটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।'

মেসেজ পেয়ে গোলাম মাহফুজ ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন ওই নম্বর ব্যবহারকারী তাকে জানান, তার নাম বোরহান। তার বাড়ি চট্টগ্রামে কিন্তু থাকেন দুবাইতে।

বোরহান গোলাম মাহফুজকে তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ লাখ টাকা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে টাকা জমা দেওয়ার পর থেকে বোরহানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বোরহানের ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা আছে।

অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার জানান, বোরহান এক সময়ে দুবাইয়ে থাকতেন। কিন্তু তিনি এখন দেশে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা এখন তার স্ত্রী মুন্নিকে খুঁজছি। বোরহানকে গ্রেপ্তারের পরপরই যিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।'

জুনায়েদ আলম আরও জানান, তাদের সন্দেহ দুবাই বা কাতারে বোরহানের কিছু সহযোগী থাকতে পারে। যারা তাকে সিম কার্ড সরবরাহ করেছিলেন।

অনুবাদ করেছেন মামুনুর রশীদ

Comments

The Daily Star  | English

Time for a cautious approach to managing Bangladesh's external debt

A key factor driving the rising debt-servicing obligations of Bangladesh originates from the country’s middle-income graduation.

12h ago