ডেইলি স্টারে সংবাদ প্রকাশের পর কেটে দেওয়া হলো অবৈধ বাঁধ
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামে সরকারি কাউনিয়া খালে অবৈধ বাঁধ কেটে দখলমুক্ত করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে ১০ হাজার একর কৃষি জমি।
আজ শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের উদ্যোগে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে দখল করা ওই খাল উদ্ধার করে বাঁধ কেটে দেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারে 'খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, জলাবদ্ধতায় ১০ হাজার একর কৃষিজমি' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আজ বাঁধটি কেটে দেওয়া হলো।
ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নান্নু মোল্লা কাউনিয়া খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছিল। এতে কয়েক হাজার একর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের জমি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়। এ খবর জানতে পেরে শুক্রবার সকালে দুই গ্রামের মানুষ নিয়ে খালের অবৈধ বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। এতে ওই দুই গ্রামের কৃষিজমি জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে।'
জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'শুক্রবার সকালে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাঁধ কেটে দেওয়া হয়।'
যোগাযোগ করা হলে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, 'হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সরকারি কাউনিয়া খালে পাঁচটি বাঁধ এবং একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা নান্নু মোল্লা। সরেজমিনে তদন্ত করে এর সত্যতা পাই। শুক্রবার সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নান্নু মোল্লার কাছ থেকে খাল উদ্ধার করে বাঁধ অপসারণ করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করায় এখন জলাবদ্ধতা মুক্ত হয়েছে ওই দুই গ্রামের ১০ হাজার একর কৃষি জমি।'
হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন প্যাদা বলেন, 'বাঁধ কেটে দেওয়ায় আমাদের জমি এখন জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে এবং আমন চাষাবাদে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।'