বাংলাদেশ

পূর্বাচল রক্ষণাবেক্ষণে স্বতন্ত্র সিটি করপোরেশন চায় রাজউক

পূর্বাচলের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা এবং আলাদা সাংগঠনিক কাঠামো গঠনে স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ চায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
পূর্বাচল প্রকল্প। স্টার ফাইল ফটো

পূর্বাচলের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা এবং আলাদা সাংগঠনিক কাঠামো গঠনে স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ চায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

এ ক্ষেত্রে তারা সিটি করপোরেশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। রাজউক এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠালে মন্ত্রণালয় যৌক্তিকতাসহ নতুন করে প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সংস্থাটিকে নির্দেশনা দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে রাজউকের পক্ষ থেকে পূর্বাচল প্রকল্প নিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

রাজধানীর ওপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের ৬ হাজার ১৫০ একর জমি নিয়ে ১৯৯৫ সালে পূর্বাচল নতুন শহর গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। পরে ৫ বার নকশা পরিবর্তন এবং ৮ বার মেয়াদ বাড়ালেও এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ৩০টি সেক্টরে ২৬ হাজার প্লটে ২৬ হাজার আবাসিক ভবন গড়ে ওঠার কথা।

উন্নয়নমূলক কাজের রক্ষণাবেক্ষণ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন। টিআই (টাউন ইম্প্রুভমেন্ট) আইন অনুযায়ী রাজউক নির্মিত যেকোনো অবকাঠামো সিটি করপোরেশন বরাবর হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত না হওয়ায় তা হস্তান্তর করতে পারছে না সংস্থাটি। এ কারণে বাস্তবায়িত প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রাজউক। এ কারণে প্রকল্পটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ বা পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব করেছে তারা।

রাজউক তার প্রস্তাবনায় এই কর্তৃপক্ষ গঠনে ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ করার কথা বলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজউকের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজউকের প্রস্তাবের যৌক্তিকতাসহ পুনরায় পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবনায় রাজউক আলাদা একটি সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এদিকে, পূর্বাচল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়েছে, বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আর পানির পাম্প বসানো হচ্ছে। এখন শুধু নিরাপত্তার দিকটি রয়েছে। সেখানে থানা নির্মাণের জন্য জায়গা আছে। যা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রথমে পুলিশ ফাঁড়ি হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ থানা হবে।

ইতোমধ্যে পূর্বাচলে ৩০০টি বাড়ির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।

রাজউকের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ক্ষেত্রে নীতিমালা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে।

বৈঠকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত সুরক্ষায় হোটেলগুলোর বর্জ্য ও হ্যাচারিগুলোর দূষিত পানি পরিশোধনের জন্য স্থায়ী এসটিপি করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এবং ফরিদা খানম। বিশেষ আমন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন।

Comments