আজও বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে তিস্তার পানি

লালমনিরহাটের প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রোববার সকাল থেকে হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
Lalmonirhat_Flood.jpg
লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর কুলাঘাট গ্রামের পানিবন্দি মানুষ কলাগাছের ভেলায় চলাফেলা করছেন। ছবি: স্টার

লালমনিরহাটের প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রোববার সকাল থেকে হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ধরলা নদীর পানি লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মহিবুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘উজানে পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে প্রধান নদীগুলো ছাড়াও জেলার ছোট নদীগুলোতে পানি বাড়ছে।’

আগাম এ বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চর ও নদী তীরবর্তী এলাকার চাষিরা। পানির নিচে তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর জমির আমন বীজতলা। এ ছাড়া, কয়েক হাজার একর জমির ভুট্টা, বাদাম ও পাট খেতে পানির জমে আছে।

আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদীর চর লোলাহীর কৃষক দেরাজ আলী (৬২) এবার ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টা ও তিন বিঘা জমির বাদাম চাষ করেছেন। ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। আগাম বন্যা হওয়ায় জমিতে পানি জমে গেছে। 

মহিষখোঁচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের পানিবন্দি সেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি-ঘরে পানি উঠে এসেছে। তাই পরিবারের লোকজন আর গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। এক বেলা খেয়ে থাকতে হচ্ছে। সরকারি অথবা বেসরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানিয়েছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বেশি বিপাকে পড়েছেন আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ী, সানিয়াজান, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের মানুষ।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামিম আশরাফ বলেন, ‘প্রায় ৫০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ও কয়েক হাজার হেক্টর জমির ভুট্টা, বাদাম ও সবজি খেত এখন পানির নিচে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ছয় লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ সহায়তা বিতরন করা হচ্ছে।’

Comments

The Daily Star  | English

New School Curriculum: Implementation limps along

One and a half years after it was launched, implementation of the new curriculum at schools is still in a shambles as the authorities are yet to finalise a method of evaluating the students.

4h ago