৫১০ রানের লিড নিয়ে থামল শ্রীলঙ্কা

এই টেস্ট জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে

প্রথম ইনিংসে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের জোড়া সেঞ্চুরিই হতাশায় ডোবায় বাংলাদেশকে। এ দুই ব্যাটারের ব্যাটেই প্রথম ইনিংসেই বড় লিড পায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসেও পুনরাবৃত্তি হলো সেই চিত্রের। আবারও সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এ দুই ব্যাটার। যা ক্রিকেটের ইতিহাসেই হয়েছে তৃতীয়বার। তাদের এই বিরল কীর্তিতে রানের পাহাড়ে চাপা পড়ছে টাইগাররা।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ৫১০ রানের লিড পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১৮ রান তুলেছে দলটি। প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড পেয়েছিল সফরকারীরা। এই টেস্ট জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে।

তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দুর ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ২০২ রানের জুটি গড়ে এ দুই ব্যাটারই করেছিলেন ১০২ রান করে। এদিন অবশ্য ১৭৩ রানে ভাঙে তাদের জুটি। তবে এদিন দুই ব্যাটারই আরও বড় স্কোর করেছেন। ধনাঞ্জয়া ১০৮ রানে থামলেও কামিন্দু শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১৬৪ রানের ইনিংস খেলেন।

এর আগে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই চ্যাপেল ভাই। ১৯৭৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইয়ান ও গ্রেগ চ্যাপেল একই টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। এর ৪০ বছর পর ২০১৪ সালে পাকিস্তানের মিসবাহ উল হক ও আজহার আলি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই টেস্টের দুই ইনিংসেই করেছিলেন সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের জন্য দিনটা ছিল কেবল হতাশারই। আগের দিন দলীয় ১১৩ রানে পাঁচ তুলে নেওয়ার পর এদিন সকালে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা বিশ্ব ফার্নান্ডোকে দ্রুতই ফেরায় টাইগাররা। এরপর ধনাঞ্জয়া আর কামিন্দুর জুটি। এ জুটি যখন ভাঙে তখন প্রায় প্রায় চারশ ছুঁইছুঁই। এরপর প্রভাত জয়াসুরিয়ার সঙ্গে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন কামিন্দু। তাতেই রানের পাহাড় গড়ে শ্রীলঙ্কা।

এদিন স্পিন আক্রমণ দিয়ে দিনের শুরু করলেও বাংলাদেশ সাফল্য পায় পেসার এনেই। দিনের তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে বিশ্বকে ফেরান সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তার অফস্টাম্পের বাইরে লেন্থ বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খোঁচা দিতে গেলে কানায় লেগে চলে যায় তৃতীয় স্লিপে। দারুণ ক্যাচ লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৪ বলে ৪ রান করেন বিশ্ব।

এরপর ধনাঞ্জয়ার সঙ্গে কামিন্দুর জুটি। যদিও এ জুটি ভাঙার সুযোগ ছিল একাধিকবার। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে গ্লাভসে লেগেছিল ধনাঞ্জয়ার। ক্যাচ ধরেও আবেদন করেননি লিটন দাস। ধনাঞ্জয়া তখন ৯৪ রানে ব্যাট করছেন। প্রথম ইনিংসেও রিভিউ না নেওয়ায় ৯৫ রানে বেঁচে গিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক।

৮০ ওভার হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে প্রথম ওভারে জুটি ভাঙার সুযোগ আসে। কিন্তু শরিফুল ইসলামের বলে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি নাহিদ রানা। এবার ধনাঞ্জয়া ছিলেন ১০১ রানে। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ দেন লঙ্কান অধিনায়ক। এর আগে ১৭৯ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় খেলেন ১০৮ রানের ইনিংস।

এরপর জয়াসুরিয়ার সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়েন কামিন্দু। এ জুটিও ভাঙেন মিরাজ। তার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করলে বোল্ড হয়ে যান জয়াসুরিয়া। ৪৭ বলে ক্যারিয়ার সেরা ২৫ রান করেন তিনি। পরের বলেই লাহিরু কুমারাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।

এরপর দশম উইকেট জুটিতে কাসুন রাজিথাকে নিয়েও ৫৩ রানের জুটি গড়েন কামিন্দু। দ্রুত রান তোলার তাগিদে তাইজুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন মিরাজের ক্যাচে পরিণত হয়ে। এর আগে খেলেন ১৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। ২৩৭ বলের ইনিংসটি সাজাতে ১৬টি চার ও ৬টি ছক্কা মেরেছেন এই ব্যাটার।

বাংলাদেশের পক্ষে ৭৪ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া ২টি করে উইকেট পান নাহিদ ও তাইজুল।  

Comments

The Daily Star  | English

Small businesses, daily earners scorched by heatwave

After parking his motorcycle and removing his helmet, a young biker opened a red umbrella and stood on the footpath.

1h ago