বাবার মন্ত্রেই এতো ছক্কা মারার কৌশল রপ্ত করেছেন অভিষেক

এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা অভিষেক নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই মেরেছেন ৮টি ছক্কা

ক্রিকেটারদের বেড়ে উঠার সময়ে রক্ষণেই সব মনোযোগ দিতে বলা হয়। এমনকি উড়িয়ে মারতে গেলে শাস্তির বিধান কোনো কোনো কোচের বেলায় প্রচলিত থাকে। তবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো অভিষেক শর্মার বাবা ছিলেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বাঁহাতি এই ব্যাটারের প্রতি তার বাবা তথা কোচ রাজকুমার শর্মার নির্দেশ ছিল- উড়িয়ে মারলে বল যেন গিয়ে পড়ে মাঠের বাইরে।

রবিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৭ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেছেন অভিষেক। সে ইনিংসে আটটি ছক্কা ও সাতটি চার মেরেছেন তিনি। গত আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও (৪২টি) হাঁকিয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ২৩ বছর বয়সী অভিষেক। তার ছক্কা মারার সহজাত দক্ষতা নিয়ে বলেন, 'এসব আমার কঠোর পরিশ্রমের ফসল। বিশেষ ধন্যবাদ আমার বাবাকে, যিনি আমাকে উড়িয়ে মারতে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়, এমনকি যখন ছোট ছিলাম তখনও।'

'সাধারণত কোচেরা বেশি উড়িয়ে মারতে অনুমতি দেন না। আমার বাবা বলতেন- তুমি যদি তুলে মারতে চাও, তাহলে বল মাঠের বাইরে গিয়ে পড়া উচিত। আমি যদি আত্মবিশ্বাসী হই, তাহলে খোলা মনে ব্যাট করতে পছন্দ করি- আমার জন্য ছোটবেলা থেকেই সবসময় ব্যাপারটা এরকম ছিল।', যোগ করেন অভিষেক।

সিকান্দার রাজার দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন অভিষেক। এরপর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই শতক হাঁকানোর পেছনে তিনি শুবমান গিলকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন। নির্দিষ্ট করে বললে জিম্বাবুয়ে ও ভারতের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের চলমান সিরিজে ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া গিলের ব্যাটকে!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০০ রানের জয় পাওয়ার পর অভিষেক জানান, 'আমি তার (গিল) ব্যাট দিয়ে খেলেছি আজকে (রবিবারের ম্যাচে) এবং খুব ভালো ম্যাচ গিয়েছে। বিশেষ ধন্যবাদ তাকে জানাই ব্যাটের জন্য। যখনই আমি ভাবি এটা চাপের ম্যাচ অথবা এমন ম্যাচ যেটিতে আমাকে পারফর্ম করতেই হবে, আমি তার ব্যাট নিই। এমনকি আইপিএলেও আমি তার কাছে ব্যাট চেয়ে নিয়েছি। এটা অনূর্ধ্ব-১২ থেকে হয়ে আসছে।'

গিলের সঙ্গে অভিষেকের বন্ধুত্ব বহু পুরনো। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে পাঞ্জাবের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন দুজনে। এরপর ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছেন তারা। জাতীয় দলের ঘরে গিল বেশ আগেভাগেই পা রাখলেও বাল্যবন্ধু অভিষেক এবার যোগ দিলেন তার সঙ্গে। সেটিও আবার অধিনায়ক গিলের অধীনে। পেছন ফিরে তাকিয়ে বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার বলেন, '(আমাদের) যাত্রা খুব সুন্দর। যখন একসঙ্গে খেলা শুরু করি, আমাদের বয়স ১০-১১ বছর হবে এবং অনূর্ধ্ব-১২ থেকে একসঙ্গে খেলে আসছি। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে খেলা। আমার দলে জায়গা পাওয়ার ব্যাপারে প্রথম কল পেয়েছি শুবমানের থেকেই, সে খুব খুশি হয়েছিল।'

Comments

The Daily Star  | English

PM briefing media on China visit

The press conference started at the prime minister's official residence Ganabhaban here at 4pm today.

32m ago