ভারতের বৈচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা

ভারতে আদালত অবমাননায় সাজা পেলেন বিচারপতি

আদালত অবমাননার দায়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পি এস কারনানকে ছয় মাসের জেল দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।
karnan
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনান। ছবি: এনডিটিভি

আদালত অবমাননার দায়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পি এস কারনানকে ছয় মাসের জেল দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি জে এস খেহারের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দিয়ে কলকাতার পুলিশ প্রধানকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এই বিচারপতির খবর প্রচার না করারও নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের বৈচারিক ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন কলকাতার আইনজীবীরা।

এর আগে সোমবার বিকালে কলকাতার নিউটাউনে বাসভবনে বসে নিজের গড়া বিশেষ আদালতে বসে বিচারপতি পি এস কারনান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার সহ সাত সদস্যের বেঞ্চকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।

বেশ কিছু দিন ধরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পি এস কারনান এই ধরনের রায় দিয়ে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় আসেন।

১ মে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের এই বিচারপতি পি এস কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সাত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আর এর পরদিন ২ মে মঙ্গলবার কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের নিজের বাড়িতে বসে নিজের আদালতেই ওই বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ সাত বিচারপতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আরও পড়ুন: ভারতে প্রধান বিচারপতিসহ ৭ বিচারপতিকে গ্রেফতারের নির্দেশ!

এখানে বলা প্রয়োজন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিচারপতির পি এস কারনানের বৈচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্ট।

এমনকি সর্বশেষ গত সোমবার (১ মে) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বে সাত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বিচারপতির কারনানের দেওয়া কোনও নির্দেশ প্রশাসনের কোনও পর্যায়ের মান্যতা পাবে না বলেও পরিষ্কার উল্লেখ করে দেওয়া হয়।

ফলে কলকাতা হাইকোর্টের এই বিচারপতির মঙ্গলবারের দেওয়া নির্দেশের কোনও আইনি ভিত্তি নেয় বলে জানাচ্ছেন আইনজ্ঞরা।

কলকাতার বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, একটি একটি বিরলতম ঘটনা। নিজেদের মধ্যে বিবাদ মেটার ব্যবস্থায় গিয়ে বিবাদ মিটিয়ে ফেলা উচিত বলেও মনে করেন ওই আইনজীবী।

বিচারপতি কারনানের আইনজীবী পিটার রমেশ এই বিষয়ে কলকাতার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে একটি আদালত অবমাননার মামলা চলছে বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে। এই ধরনের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষার আদেশ দেওয়ার কোনও বিধান নেই। সেটা করতে হলে ২০১৭ সালের মানসিক ব্যাধি আইন অনুযায়ী করতে হবে। যেটা ওই আদেশে বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বিচারপতি কারনান তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনও প্রকার সহযোগিতাও করবেন না।

প্রধান বিচারপতি জে এস খেহারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত সোমবার (১ মে) যেভাবে বিচারপতি কারনান বেঞ্চের সাতজন বিচারককে কলকাতায় তার আদালতে হাজিরা দেওয়া নির্দেশ দিয়ে সেই সংক্রান্ত যে বিবৃতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, সেগুলো দেখে সুপ্রিম কোর্টের মনে হয়েছে যে বিচারপতি কারনান হয়তো আদালত অবমাননার মূল মামলায় নিজের পক্ষে ঠিকমতো সাওয়াল করতে পারবেন না। এর জন্য কলকাতায় একটি চিকিৎসক দলকে তাঁর মানসিক সুস্থতা খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্টের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতার মানসিক হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক গিয়েছিলেন বিচার পতি কারনানের মানসিক সুস্থতা পরীক্ষা করতে তবে বিচারপতি কারনান তাদের সঙ্গে কোনও সহযোগিতাই করেননি।

Comments

The Daily Star  | English

Myanmar responded positively in taking back Rohingyas: FM Hasan

Myanmar Foreign Minister Than Swe has responded positively to start repatriation of the Rohingyas to their homeland-Myanmar

25m ago