মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ব্রিফিং

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৫২ জনের মৃত্যু, ক্ষতি ১৪ হাজার কোটি রুপি

West Bengal flood
পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ২১ আগস্ট পর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং রাজ্যটির ১১ জেলায় ১৪ হাজার কোটি রুপির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: স্টার

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়িসহ রাজ্যটির ১১ জেলায় ১৪ হাজার কোটি রুপির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ভারতের বিহার এবং আসামের চেয়ে কোনও অংশেই ভয়াবহতা দিক থেকে পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গ। বন্যাপীড়িত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের জেলা পরিদর্শনে গিয়ে এমন তথ্যই জানালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

সোমবার (২১ আগস্ট) তিনি মালদার গাঁজল, চাঁচল, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখেন। মালদার গাঁজল এলাকার জাতীয় সড়কের ওপরে জমা পানিতে নেমে রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁদের অভাব-অনুযোগের কথা শোনেন তিনি।

এরপর, মালদা জেলা প্রশাসনের গৌড় ভবনে মালদা ও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশসুপারসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী রবি ঘোষকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের পৌর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও রাজ্যটির মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।

গৌড় ভবনে বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের কাছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সবকিছু দেখা উচিত। বিহার ও আসামে বন্যা হয়েছে। সেখানেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাও কম নয়, বন্যার কারণে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “উত্তরের ছয় জেলাসহ দক্ষিণের পাঁচ জেলা মিলিয়ে ১১ জেলায় বন্যায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজ্য সরকার ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ রয়েছে। তবুও কেন্দ্রীয় সরকারকে বন্যা সমস্যা দেখা উচিৎ বলে মনে করি।”

মমতার মতে, নদীগুলোর সঠিক ড্রেজিং হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গার পানি চুক্তি করেছে ১৯৯৬ সালে। পানি গেছে কিন্তু গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন রুখতে সাতশো কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল, যা আজও হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তাঁর এই বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান মমতা ব্যানার্জি।

Comments