মানুষ কী খায় না খায়!

কোন দেশের মানুষ হজম করে ফেলে বিষাক্ত মাশরুম? সবচেয়ে বেশি কফি পেটে চালান করে কোন জাতি? কিংবা পৃথিবীর কোথায় একটা তরমুজ বিক্রি হয় ‘মাত্র’ ৬ হাজার ১০০ ডলারে? উত্তরগুলো হয়তো বিস্মিত করবে আপনাকে। পড়ুন বিশ্বের নানান দেশের খাবার নিয়ে ১০টি অদ্ভুত তথ্য।

কোন দেশের মানুষ হজম করে ফেলে বিষাক্ত মাশরুম? সবচেয়ে বেশি কফি পেটে চালান করে কোন জাতি? কিংবা পৃথিবীর কোথায় একটা তরমুজ বিক্রি হয় ‘মাত্র’ ৬ হাজার ১০০ ডলারে? উত্তরগুলো হয়তো বিস্মিত করবে আপনাকে। পড়ুন বিশ্বের নানান দেশের খাবার নিয়ে ১০টি অদ্ভুত তথ্য।

.১. কলম্বিয়ার সিনেমা হলে জনপ্রিয় খাবার পিঁপড়া
উন্নত দেশগুলোর কথা বলি কেন, বাংলাদেশের বড় বড় সিনেমা হলগুলোর কথাই ধরা যাক। সিনেমা আর পপকর্ন যেন ‘অমর জুটি’! কিন্তু সব দেশে এই দৃশ্য দেখা যায় না। এ ক্ষেত্রে কলম্বিয়ায় সিনেমা হলগুলোয় পপকর্নের বিকল্প খাবার হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্যাকেটজাত পিঁপড়া! কোরিয়ানরা সিনেমা দেখতে দেখতে খায় প্যাকেটজাত কাটল ফিশ! আর চীনারা খায় আলুবোখারা।

.২. বিষাক্ত খাবারও যেখানে জনপ্রিয়
কতগুলো দেশ আছে, যেখানে কিছু খাবার বেশ সুখাদ্য হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই খাবারই ঠিকঠাক রান্না না হলে স্রেফ বিষে রূপান্তরিত হতে পারে! যেমন জাপানে খাওয়া হয় পটকা মাছ। বলে রাখা ভালো, আমাদের দেশেও অনেকে পটকা মাছ খেয়ে ফেলে এবং এই মাছ খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবরও শোনা যায়। তো জাপানে পটকা মাছ খাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে রান্না করে নেওয়া হয়। আর সেটা না হলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে প্রাণ হারায় অনেকে! স্ক্যান্ডেনেভিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার গ্রেট লেক অঞ্চলে ব্রেইন মাশরুম বেশ জনপ্রিয়। ঠিকমতো রান্না না করলে খাবারটি হয়ে যাবে বিষ! নামিবিয়ায় পূর্ণবয়সী জায়ান্ট বুলফ্রগও বেশ মুখরোচক খাবার। কিন্তু ওই ব্যাঙদেরই তরুণ বয়সী একটাকে খেয়ে ফেললে ইহলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে!

.৩. শর্করার চাহিদা মেটাতে কাসাভা তৃতীয়
কাসাভা খাবারটি আমাদের মিষ্টি আলুর মতো। উন্নত দেশগুলোতে অতটা জনপ্রিয় নয়, কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশেরই প্রধান খাবার এটি। বিশেষ করে আফ্রিকার অনেকে দেশেই কাসাভা খাওয়া হয় ভাত বা গমের মতো। বিশ্বে শর্করাজাতীয় খাবারের তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাত, তারপর গম। আর তারপরই আছে কাসাভার নাম।

.৪. ইতালিতে টমেটোর প্রচলন ১৬০০ শতাব্দীর পরে
টমেটো সসের জন্য ইতালি বিখ্যাত। তবে মুখরোচক এই খাবারটি ইতালির রাঁধুনিরা রান্নায় ভুলেও ব্যবহার করেনি ১৬০০ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত। টমেটো সবজিটি আমেরিকা থেকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ১৫০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে। এর আগে ইতালীয়রা ভাবত, টমেটো একটা বিষাক্ত খাবার। তাই কেবল খাবার পরিবেশনেই ব্যবহৃত হতো সেগুলো!

.৫. প্রতিদিন একটি করে স্যান্ডউইচ খায় ৪৯ শতাংশ মার্কিন
মেন্যুতে খাবারের কমতি নেই; কিন্তু মার্কিনদের পছন্দের তালিকায় সম্ভবত স্যান্ডউইচই আছে সবার ওপরে। ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০ বছরের বেশি বয়সী মার্কিনদের মধ্যে ৪৯ শতাংশই প্রতিদিন একটি করে স্যান্ডউইচ খায়। তবে এই খাবারটি এতটা জনপ্রিয় ছিল না সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অনেক মার্কিন আর দশটা ব্রিটিশ খাবারের মতো স্যান্ডউইচকেও ফেলে দিয়েছিল নিষিদ্ধের তালিকায়। ইংল্যান্ডে ১৮০০ শতকে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্যান্ডউইচ। আর যুক্তরাষ্ট্রে এই রেসিপি যায় ১৮১৫ সালের পর।

.৬. সবচেয়ে দামি কিছু ফলের দেশ জাপান
দুষ্প্রাপ্য ফল উৎপাদনে জাপান নিঃসন্দেহে এগিয়ে আছে। ফলে সেগুলোর বাজারদরও মাথায় হাত দেওয়ার মতো। তবে সবচেয়ে দামি ফল উৎপাদনেও পটু জাপানের ফলচাষিরা। আলাদা উপলক্ষে জাপানের এই চাষিরা নিলামে তুলেছিলেন একাধিক দামি ফল। যেমন ১৭ পাউন্ডের একটা ‘ডেনসাক’ তরমুজের দাম উঠেছিল ৬ হাজার ১০০ ডলার (প্রায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা) পর্যন্ত! আবার এক থোকা রুবি রোমান আঙুর বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৪০০ ডলারে। আর এক ক্রেতা ইয়ুবারি কিং জাতের একটা তরমুজ কিনেছিলেন ২৩ হাজার ৫০০ ডলার গুনে দিয়ে!

.৭. সবচেয়ে বেশি মরিচ খায় ভারতীয়রা
মজার বিষয় হলো, ভারতের মাটিতে মরিচ জন্মাত না। ১৫০০ শতাব্দীতে ভারতে মরিচ আমদানি করেছিল পর্তুগিজরা। সেই থেকে ভারতীয়রা মরিচকে আপন করে নিয়েছে। এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মরিচ খায় ভারতের লোকজন। স্বাভাবিকভাবেই মরিচ উৎপাদনেও এগিয়ে আছে দেশটি। বিশ্বের সবচেয়ে ঝাল মরিচও মেলে সেখানে। ভূত জলোকিয়া (ভূত মরিচ) নামের এই জাতটি জন্মে আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে। বলা হয়, সাধারণ মরিচের চেয়ে ভূত জলোকিয়ার ঝাল ৪০০ গুণ বেশি!

.৮. তুর্কিরাই ‘সেই রকম চা-খোর’
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চা পান করা হয় চীনে। ২০১৪ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড। তুর্কিরা আবার এগিয়ে আছে অন্যদিক দিয়ে। তুরস্কে এক বছরে গড়ে প্রতিজন চা পান করে ৬ দশমিক ৯৬ পাউন্ড। আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য আছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।

.৯. কফি বেশি পান করে নেদারল্যান্ডসের মানুষ
নেদারল্যান্ডসের কফি ব্যবসায়ীরা নিশ্চয়ই বেশ পয়সাওয়ালা। কারণ, দেশটির জনগণ প্রতিদিন গড়ে ২ দশমিক ৪১৪ কাপ কফি পান করে। ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, নেদারল্যান্ডসের পরই এই তালিকায় আছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। ফিনল্যান্ডের লোকজন প্রতিদিন গড়ে পান করে ১ দশমিক ৮৪৮ কাপ কফি, আর সুইডেনে ১ দশমিক ৩৫৭ কাপ। মজার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকার দশের মধ্যেও নেই। প্রতিদিন গড়ে ০ দশমিক ৯৩১ কাপ কফি খেয়ে মার্কিনরা আছে ১৬তম অবস্থানে।

.১০. সবচেয়ে দামি ‘চিজ’ মেলে সার্বিয়ায়
যুক্তরাজ্যে একধরনের পনির পাওয়া যায়; যেটার রেসিপিতে থাকে খাবার উপযোগী স্বর্ণের পরত। ‘ব্রিটিশ চিজ’ নামে পরিচিত ওই পনিরের এক পাউন্ডের দাম ৪৫০ ডলার (প্রায় ৩৬ হাজার টাকা)। এতেই চোখ কপালে উঠল? একটু দম নিন। সার্বিয়ায় মাত্র একটা জায়গা থেকে ‘পিউল’ নামে একটা পনির তৈরি হয়। কাঁচামাল কী জানেন? গাধার দুধ! আর দাম? এর কারিগরেরা বলেন, তাঁরা চাইলে প্রতি পাউন্ড ১ হাজার ৭০০ ডলার থেকে শুরু করে ২ হাজার ৯০০ ডলার পর্যন্ত দাম হাঁকাতে পারেন। বিক্রিও হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু বিশেষ ছাড়ে পিউল পনির তাঁরা বিক্রি করেন পাউন্ডপ্রতি ৫৭৬ ডলারে (প্রায় ৪৬ হাজার টাকা)। এর উৎপাদন-প্রক্রিয়া ভীষণ শ্রমসাধ্য বলেই দামের এমন বাহার। একেই বলে ‘চিজ’!

Comments