নেত্রকোণার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে আকস্মিক বন্যা
ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করায় বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক সড়ক, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
সোমবার সকালে কলমাকান্দার খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নে দেখা যায়, মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে ঢলের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে ঢুকছে। খারনই ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কটির অন্তত ২০টি স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, দুর্গাপুরে গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত থেকেই হঠাৎ সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করে।
খারনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, 'গভীর রাত থেকে নদী ও নালা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ঢুকছে। বাড়িঘরের ভেতর দিয়েও পানি যাচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।'
একই রকম ক্ষতির কথা জানিয়েছেন রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।
দুর্গাপুরের গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, 'নেতাই নদীর পানি প্রবল স্রোতে ঢুকছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দিনের মধ্যেই বাড়িঘর প্লাবিত হবে।'
নেত্রকোণা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন বলেন, 'অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কলমাকান্দার উবদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নেতাই নদীর পানি বাড়ায় দুর্গাপুরের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।'
কলমাকান্দার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, প্রশাসনের একটি দল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছে। আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।'