পটুয়াখালীতে ৪০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ১৭৬ শিশু, মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৪০টি, কিন্তু বর্তমানে সেখানে ভর্তি আছে ১৭৬ শিশু রোগী। এই পরিস্থিতিতে একটি শয্যাতেই দুই, তিন এমনকি চারজন শিশুকে গাদাগাদি করে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতেও যাদের শয্যা মিলছে না, তাদেরকে থাকতে হচ্ছে মেঝেতে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। প্রতিটি শয্যার চারপাশে রোগীর স্বজনদের ভিড়। কোথাও মায়ের কোলে অসুস্থ শিশু, কোথাও আবার মেঝেতে শুইয়ে শিশুদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে।
সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের মরিয়ম বেগম (২৩) জানান, তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে জান্নাতুলের শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে ভুগছে। তার কোলে আছে আট মাস বয়সী আরেক শিশু।
মরিয়ম বলেন, ‘এখানে এত রোগী যে একটি বিছানায় তিনজন শিশুকে রাখা হয়েছে। ছোট দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
একইভাবে কালিকাপুর ইউনিয়নের শাহীন বয়াতি ও শান্তা আক্তার তাদের দুই মাস বয়সী ছেলে জিসানকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। শিশু ওয়ার্ডের ১০ নম্বর শয্যায় আরও দুই শিশুর সঙ্গে জিসানের চিকিৎসা চলছে। জৈনকাঠী ইউনিয়নের সেহাকাঠি গ্রামের দেড় বছর বয়সী শাহিদারও একই অবস্থা।
রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে খাবার পাচ্ছে না। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক পরিবারকে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন মাত্র ৪০ জন রোগীর জন্য খাবারের সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীদেরকে খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. অহিদুজ্জামান বলেন, ‘একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন, কোথাও তারও বেশি শিশু রয়েছে। এতে শিশুরা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি তাদের মায়েরাও বসার জায়গা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের সন্তুষ্ট করা কঠিন। তারপরও চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন বলেন, পটুয়াখালীর এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষেরাও এখানে আসেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’