শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ককরোচ জনতা পার্টি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ১৮০ জন আহত হন।

বিক্ষোভের এক দিন পর আজ মঙ্গলবার সিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই সিজেপির সদস্যরা যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে রাতভর অবস্থান করেন। দলটির ডাকে ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানান।

গত মে মাসে যাত্রা শুরুর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী পেয়েছে সিজেপি। ইনস্টাগ্রামে তাদের মূল পেজেই অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৩৮ লাখ।

২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এই সিজেপি এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাদের নেতা আশুতোষ রানকা এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমরা থামব না। শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতেই হবে।’

আজ মঙ্গলবারও শত শত বিক্ষোভকারীকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সোমবার পার্লামেন্টের দিকে এগোতে থাকা বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এত বড় বিক্ষোভ দেখা যায়নি।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, আহতদের মধ্যে তাদেরই ১১৮ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে বিক্ষোভের আয়োজকেরা কর্তৃপক্ষের এই ‘দমনমূলক আচরণের’ নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, পুলিশের হামলায় শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

আন্দোলনের কারণ

দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এখনো লাখ লাখ মানুষ ভালো বেতনের চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এটা নিয়ে তরুণদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে।

এর পাশাপাশি সম্প্রতি একের পর এক প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এই ক্ষোভ থেকে বহু মানুষ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় গত মাসে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নতুন করে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এসেছিল।