বৃষ্টির দিনে কাপড় শুকাবেন কীভাবে?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সকাল থেকে টানা বৃষ্টি। বারান্দায় কাপড় মেলার উপায় নেই। ঘরের ভেতরে গতকালের কাপড় এখনো ভেজা। এর মধ্যে ওয়াশিং মেশিন বা বালতিতে জমেছে আরেক দফা কাপড়।

বর্ষাকালে বাংলাদেশে এই দৃশ্য পরিচিত। বিশেষ করে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে কাপড় শুকানো নিয়ে শুরু হয় আসল ঝামেলা। ঘরের ভেতরে কাপড় মেললে সহজে শুকাতে চায় না। আবার দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে গন্ধও হতে পারে। তাই বৃষ্টির দিনে কাপড় শুকানোর ক্ষেত্রে একটু কৌশলী হওয়া প্রয়োজন।

কাপড়ের পানি যতটা সম্ভব ঝরিয়ে নিন

হাতে কাপড় ধুলে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে তারপর মেলুন। তবে কাপড়ের ধরন না বুঝে অতিরিক্ত জোরে মোচড়ানো ঠিক নয়। এতে কিছু কাপড়ের আকৃতি নষ্ট হতে পারে। ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করলে স্পিনের পরও কাপড় খুব ভেজা আছে কি না দেখে নিন। কাপড়ে যত কম পানি থাকবে, ঘরের ভেতরে শুকাতে তত কম সময় লাগবে।

কাপড় গায়ে গায়ে লাগিয়ে মেলবেন না

জায়গা কম বলে একটি দড়িতে অনেক কাপড় গাদাগাদি করে মেলে দেন অনেকে। এতে একটি কাপড়ের সঙ্গে আরেকটি কাপড় লেগে থাকে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ কমে যায়। কাপড়ের মধ্যে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখুন। একটি দড়িতে জায়গা না হলে হ্যাঙ্গার ব্যবহার করতে পারেন। শার্ট, কামিজ বা টি-শার্ট হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলে চারপাশ দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে।

ঘরের যে জায়গায় বাতাস চলে, সেটি বেছে নিন

বারান্দায় কাপড় মেলা সম্ভব না হলে ঘরের এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে বাতাস চলাচল করে। জানালার কাছাকাছি বা দুটি ঘরের মাঝামাঝি খোলা জায়গা কাজে আসতে পারে। শুধু একটি বন্ধ ঘরে দরজা-জানালা আটকে কাপড় মেলে রাখলে ঘরের ভেতরের আর্দ্রতাও বাড়তে পারে। সম্ভব হলে জানালা কিছুটা খোলা রাখুন। তবে বাইরে থেকে বৃষ্টির পানি ঢুকছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ফ্যানের বাতাস কাজে লাগান

বৃষ্টির দিনে রোদ না থাকলেও ফ্যান বেশ কাজে আসতে পারে। কাপড় মেলার জায়গার কাছাকাছি ফ্যান চালিয়ে রাখলে বাতাস চলাচল বাড়ে এবং কাপড় তুলনামূলক দ্রুত শুকায়। তবে এক জায়গায় অনেক কাপড়ের স্তূপ রেখে শুধু ফ্যান চালালে খুব একটা লাভ হবে না। কাপড়গুলো আলাদা করে ছড়িয়ে মেলে তারপর বাতাসের ব্যবস্থা করুন।

মোটা ও পাতলা কাপড় আলাদা করুন

জিনস, তোয়ালে বা মোটা প্যান্ট শুকাতে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় লাগে। এগুলোর পাশে পাতলা কাপড় গাদাগাদি করে রাখলে পুরো জায়গাটিই স্যাঁতসেঁতে থাকতে পারে। তাই মোটা কাপড় আলাদা জায়গায় মেলুন। জিনসের পকেট বের করে দিন এবং তোয়ালে পুরোটা খুলে মেলুন। কয়েক ঘণ্টা পর কাপড় উল্টে দিলে অন্য পাশেও বাতাস লাগবে।

হ্যাঙ্গারের সঠিক ব্যবহার করুন

বর্ষাকালে কয়েকটি বাড়তি হ্যাঙ্গার বেশ কাজে আসে। শার্ট, টপ, কামিজ কিংবা শিশুদের পোশাক হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে জানালার কাছাকাছি রাখা যায়। তবে একটি হ্যাঙ্গারে দুই-তিনটি কাপড় ঝুলিয়ে দেবেন না। এতে বাইরের অংশ শুকিয়ে গেলেও ভেতরের কাপড় ভেজা থেকে যেতে পারে। ভেজা কাপড় আলমারির ভেতর বা দরজার পেছনে ঝুলিয়ে রাখাও ভালো উপায় নয়, কারণ সেখানে বাতাস চলাচল কম।

ইস্ত্রি দিয়ে ভেজা কাপড় শুকানোর চেষ্টা করবেন না

অফিসে যাওয়ার তাড়া, অথচ পছন্দের জামাটি এখনো একটু ভেজা—এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ সরাসরি ইস্ত্রি ব্যবহার করেন। ভেজা কাপড়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই কাপড় পুরোপুরি না শুকালে তাড়াহুড়া করে ইস্ত্রি না করাই ভালো। প্রয়োজনে অন্য পোশাক বেছে নিন। একটি জামার জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

জরুরি হলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন

বাইরে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে, অথচ জামার কোনো একটি অংশ এখনো সামান্য ভেজা—এমন পরিস্থিতিতে হেয়ার ড্রায়ার কাজে আসতে পারে। কাপড়টি হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে কিছুটা দূর থেকে হেয়ার ড্রায়ারের বাতাস দিন। এক জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে গরম বাতাস না দিয়ে ড্রায়ারটি নড়াচড়া করতে থাকুন। তবে পুরো ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ারের ওপর ভরসা না করাই ভালো। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত তাপে কাপড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জরুরি সময়ে কলার, হাতা বা পকেটের মতো সামান্য ভেজা অংশ শুকাতেই এটি ব্যবহার করা ভালো।

শুকিয়েছে কি না ভালোভাবে দেখে তারপর ভাঁজ করুন

কাপড়ের বাইরের অংশ শুকনা মনে হলেই আলমারিতে তুলে ফেলবেন না। বিশেষ করে কলার, হাতার ভাঁজ, কোমরের অংশ বা পকেটের ভেতর হাত দিয়ে দেখে নিন। এসব জায়গা অনেক সময় ভেজা থেকে যায়। সামান্য ভেজা কাপড়ও ভাঁজ করে আলমারিতে রাখলে পরে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হতে পারে। পাশের কাপড়েও সেই গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টানা বৃষ্টিতে কাপড় শুকানো কিছুটা ঝামেলারই। বিশেষ করে ছোট বাসা, বারান্দাহীন ফ্ল্যাট বা পরিবারের সদস্য বেশি হলে সমস্যা আরও বাড়ে। তবে কাপড় গাদাগাদি করে না মেলা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং পুরোপুরি শুকানোর আগে আলমারিতে না তোলার মতো ছোট কিছু অভ্যাস এই ঝামেলা অনেকটাই কমাতে পারে। বর্ষায় রোদের অপেক্ষায় বসে না থেকে, ঘরের জায়গাটুকুই একটু বুঝে ব্যবহার করাই তখন সবচেয়ে বাস্তব সমাধান।