মানিকগঞ্জে জাতীয় পার্টির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বাতিল

মানিকগঞ্জের ৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। অন্য ১২ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়নি।
মানিকগঞ্জ
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

মানিকগঞ্জে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়নি। দুজন ঋণ খেলাপির দায়ে এবং এক জনের গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গণ্য হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেহেনা আক্তার।

ঋণ খেলাপী দায়ে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার এস এম আব্দুল মান্নান ও মানিকগঞ্জ-১ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জহিরুল আলম রুবেলের।

অন্যদিকে বাড়ির গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান সাঈদের।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রেহেনা আক্তার জানান, মানিকগঞ্জের ৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। অন্য ১২ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়নি।

যাচাই-বাছাই শেষে আজ রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

যাদেরটা বাতিল হয়েছে তারা ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বাতিল হয়েছে।

বৈধ হয়েছে ৪ জনেরটা। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ, জেলা জাসদের সভাপতি ও ঘিওর উপজেলা পরিষদের দুবারের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জকি এবং জাকের পার্টির দ্বীন মোহাম্মদ খান।

মনোনয়ন বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আলী বেপারী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল আলম রুবেল ও হাসান সাঈদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আফজাল, গণফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজাহান খান ও বিএনএম এর মোনায়েম খানের।

সিংগাইর, হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-২ আসনে ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৪ জনের মনোনয়ন।

এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, টানা ৩ বারের সংসদ সদস্য, সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, সিংগাইর উপজেলা পরিষদের দুবারের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মুশফিকুর রহমান খাঁন হান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমেদ আসিফ, জাসদের রফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী, বিএনএম এর এ কে এম ইকবাল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এ কে নাহিদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের তানভীন রহমান ও বাংলাদেশ কংগ্রেস এর প্রার্থী জাকির হোসেন।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আব্দুল মান্নান, প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার আলম বাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমেদ চঞ্চল ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন।

মানিকগঞ্জ পৌরসভা, সাটুরিয়া উপজেলা ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৯ জন।

এর মধ্যে বাতিল হয়েছে দুজনের মনোনয়ন আর বৈধ হয়েছে ৭ জনেরটা। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, টানা তিনবারের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, এই আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম খান কামাল, জাকের পার্টির দ্বীন মোহাম্মদ খান, জাসদের সৈয়দ সারোয়ার আলম চৌধুরী, তৃণমূল বিএনপি'র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রার্থী এম হাবিব উল্লাহ, বিএনএম এর প্রার্থী খালেক দেওয়ান। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন- জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুল আলম রুবেল ও বাংলাদেশ কংগ্রেস এর প্রার্থী সাবিনা বেগম।

Comments

The Daily Star  | English
Pilkhana BDR Mutiny

Carnage At Pilkhana BDR HQ: 15 years on, justice yet to be meted out

Fifteen years have passed since the BDR mutiny that killed 74 people, including 57 army officials, but the victim families are yet to get final justice and the accused their due punishment, as both the cases filed over the incident have not yet been disposed of due to lengthy legal processes and courts being overburdened with cases.

11h ago