জুলাইকে প্রায় কবর দিয়ে পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গেছি: আলতাফ পারভেজ
জুলাইকে ইতোমধ্যে প্রায় পুরোটা কবর দেওয়া হয়ে গেছে এবং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ।
তিনি বলেছেন, 'আসলে এটা তাৎক্ষণিক একটা ব্যর্থতা, বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে আমরা পড়ে গিয়েছিলাম।'
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট আয়োজিত 'অপূর্ণ সংস্কারের গল্প: প্রত্যাশা, ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলতাফ পারভেজ বলেন, 'জুলাই-পরবর্তী সংস্কারের ব্যর্থতাকে শুধু তাত্ত্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এই "ব্যর্থতা" ও "বিশ্বাসঘাতকতার" পেছনের রাজনৈতিক কারণগুলোও খুঁজে বের করতে হবে।'
জুলাই কোনো পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব না হলেও এটি একটি 'বিপ্লবী মুহূর্ত' তৈরি করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের ঘাটতি ছিল এই যে কোনো বিপ্লবী সংগঠন ছিল না, বিপ্লবী কর্মসূচির কোনো সংগঠন ছিল না। যখন বিপ্লবী মুহূর্ত ব্যর্থ হয়, তখন একটা প্রতিবিপ্লবী মুহূর্ত সামনে চলে আসে।আমরা এখন সেই বিপদের সামনেও আছি।'
তিনি বলেন, 'অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বদলে দেশ পুরোনো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ধারায় ফিরে গেছে। কারণ গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে এসে এই পার্লামেন্ট বা এখন যাদের হাতে পড়ল রাষ্ট্রের মালিকানা, তারা জনগণের সার্বভৌম শক্তি, জনগণের যে গাঠনিক ক্ষমতা, সেটাকে স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছেন না।'
'জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা এক জিনিস, আর জনগণের অর্পিত ক্ষমতা আরেক। গণভোট হলো জনগণের গাঠনিক ক্ষমতার প্রকাশ যে, এসব সংস্কার করতে হবে সংবিধানে...কিন্তু শুধু কিছু সংস্কারের আওয়াজ আছে চলতি সংসদে। কিন্তু তার জন্য তো সংবিধানের সংস্কার প্রয়োজন।’
এই গবেষক আরও বলেন, ‘এর জন্য সংস্কার পরিষদ হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা সেটা হতে চাচ্ছেন না। তারা গাঠনিক অধ্যায়ে যেতে চাচ্ছেন না। জনগণ তাদের যে অর্পিত ক্ষমতা দিয়েছে সেটুকু দিয়ে তারা পাঁচ বছর কাটিয়ে দিতে চান।'
আলতাফ পারভেজ বলেন, 'এই গণঅভ্যুত্থানকে দক্ষিণমুখী একটা টেন্ডেন্সি নিয়ে যাচ্ছে সেটা তো স্পষ্ট। এটা আসলে শ্রেণি-পেশার পরিবর্তনবাদী সংগঠন না থাকার কারণে। দ্বিতীয় ঝামেলার দিক হলো এখানে আবার একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একটা ঝামেলা আসবে। কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে সে জায়গাটা অস্পষ্ট করে রাখা আছে। আমি বলব এটা দক্ষিণ দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে অভ্যুত্থানের ব্যর্থতাকে পুঁজি করে।'
অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী, আশুলিয়া, গাজীপুর ও সাভারের শ্রমজীবীদের অংশগ্রহণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা শুধু কোটা সংস্কারের জন্য জীবন দেননি। তারা বৈষম্যহীন সমাজ এবং একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার আশাও করেছিলেন।
'জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলোকে আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত,' বলেন আলতাফ পারভেজ।