‘তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না’
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বদলি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে’, ‘শিক্ষকদের বদলি কেন, মাউশি জবাব চাই’, ‘শিক্ষকদের বদলির আদেশ, মানি না মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সকাল ৯টার দিকে বদলি হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের কাছে হাতজোড় করে আন্দোলন বন্ধ করার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। দয়া করে তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না।’
জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে প্রায় কোমরসমান পানি পার হয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। এ ঘটনার ১০ দিনের মাথায় ২৩ জুলাই কলেজটির ৭ শিক্ষককে একযোগে বদলি করা হয়। তারা সবাই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ–২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদূসের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বদলির তথ্য জানানো হয়। আদেশে তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে একইসঙ্গে বিভিন্ন কলেজে বদলির মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। তবে বদলির আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তাফসিলা বলেন, ‘সেদিন জলাবদ্ধতা শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজেই হয়নি, সারা শহরই পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন করা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, এটি সিটি করপোরেশনের কাজ।’
আরেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা লিসা বলেন, ‘পানি ডিঙিয়ে আমরা ভিক্টোরিয়া কলেজে পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। কান্দিরপাড় থেকে টমছমব্রিজ সড়কের পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে ছিল। রাস্তার পাশেই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। তারা কি সেদিনের জলাবদ্ধতা দেখেনি? তাহলে কেন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি?’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন আমাদের সাত শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মোহাম্মদ মোহসীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের চাকরির বিধিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমার একটি সন্তান প্রতিবন্ধী। তার দেখাশোনার দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়। বদলির ঘটনায় আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। তবে সরকারি আদেশ মেনেই আমাদের চাকরি করতে হবে।’