চট্টগ্রামে হেলে পড়েছে চারতলা ভবন, সরানো হলো আরও দুই ভবনের বাসিন্দাদের

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার পশ্চিম শহীদ নগর এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবন হেলে পড়ার পর তিনটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
চট্টগ্রামে একটি আবাসিক ভবন হেলে পড়ায় আশপাশের আরও দুটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার পশ্চিম শহীদ নগর এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবন হেলে পড়ার পর তিনটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহীদ নগর এলাকার তৈয়বিয়া হাউজিং সোসাইটিতে এই ঘটনা ঘটে। 

বাসিন্দারা ও স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, বায়েজিদ-অক্সিজেনের পশ্চিম শহীদ নগর এলাকার 'শীতল ঝর্ণা খালে' চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) খনন কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, হেলে পড়া 'খোরশেদ ম্যানসন'-এর ঠিক পেছনেই খালটির অবস্থান। 

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে ডিডিএলজিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা কমাতে নগরীর প্রায় ১৬টি ছোট-বড় খাল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে শহরজুড়ে সিডিএর পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে বলে জানান সিডিএর কর্মকর্তারা।

বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যায়। ভবনের সাতটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনটির পেছনেই খালটির অবস্থান।'

'নিরাপত্তার কারণে আমরা খোরশেদ ম্যানসনসহ পাশের আরও দুটি আবাসিক ভবন- একটি পাঁচতলা ভবন এবং একটি দ্বিতল ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছি', বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভবনটি যেখানে হেলে পড়েছে, সেখানে শীতল ঝর্ণা খালে সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান। এ বিষয়ে আমরা জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি।'

'আমরা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে পাইনি। এখন বিশেষজ্ঞরা ভবনগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন', যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সিডিএর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভবনটির পাইলিং দুর্বল হওয়ায় এমনটি হয়েছে। আমরা এখনো খনন কাজই শুরু করিনি। আমরা রেটেইনিং ওয়াল দেওয়ার জন্য খালের পাড়ে স্টিল শিট পাইলিং করছিলাম।'

'এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই। দুর্বল পাইলিংয়ের কারণে মেশিনের কম্পনের ফলে ভবনটি হেলে পড়তে পারে, তবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। আমরা সমস্যাগুলো পরীক্ষা করছি', বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার উমর ফারুক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিতে সিডিএ, চসিক, পুলিশ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস ও গণপূর্তের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেবে।'

এর আগে, ২০২১ সালেও চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকায় গুলজার খালের খনন কাজের সময় একটি ভবন হেলে পড়লে তিনটি ভবন এবং পাঁচটি টিনের ছাদযুক্ত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

Comments