আজ আইসক্রিম খাওয়া ও খাওয়ানোর দিন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ছোট-বড় সবার প্রিয় একটি খাবার আইসক্রিম। আর গরমের দিনে এক স্কুপ ঠাণ্ডা আইসক্রিমের মজাই আলাদা। এই প্রিয় খাবারটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয় ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে। শুধু একটি দিনই নয়, আইসক্রিমের প্রতি ভালোবাসার সম্মান জানিয়ে পুরো একটি মাসকেও আইসক্রিম মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

আইসক্রিমের স্বাদের জগৎ বেশ বৈচিত্র্যময়। ভ্যানিলা, গাঢ় চকোলেট, মিষ্টি স্ট্রবেরি, সুগন্ধি পেস্তা—কত যে স্বাদ! শুধু কাপ বা কোনেই নয়, আইসক্রিম দিয়ে তৈরি হয় কেক, স্যান্ডউইচ, মিল্কশেক। আছে বিখ্যাত বানানা স্প্লিটের মতো দারুণ সব ডেজার্টও।

এই দিবসটি উদযাপনের সবচেয়ে মজার উপায় কী? খুব সহজ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আইসক্রিম খাওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট আইসক্রিম পার্টি করা। কিংবা নিজের হাতে নতুন স্বাদের আইসক্রিম বানানোর চেষ্টা করা। ফল, বাদাম, চকোলেট বা নিজের সবচেয়ে প্রিয় উপকরণগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হতে পারে একেবারে নতুন একটি স্বাদ।

আইসক্রিমের গল্প মোটেও নতুন নয়। এর ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ছবি: সংগৃহীত
আইসক্রিমের গল্প মোটেও নতুন নয়। এর ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ছবি: সংগৃহীত

আজকাল ঘরে বসেই আইসক্রিম বানানোর অসংখ্য সহজ রেসিপি পাওয়া যায়। তাই চাইলে ছোটরাও বড়দের সাহায্যে নিজেদের পছন্দের আইসক্রিম তৈরি করতে পারে। আর যদি রান্নাঘরে যেতে ইচ্ছে না করে, তাহলে নতুন কোনো স্বাদের আইসক্রিম চেখে দেখাও হতে পারে দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

তবে আইসক্রিমের গল্প মোটেও নতুন নয়। এর ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৫০০ সালে ইরানের আচেমেনিড সাম্রাজ্যে বরফের সঙ্গে নানা স্বাদ মিশিয়ে গরমের দিনের জন্য ঠাণ্ডা খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আজকের আইসক্রিমের ধারণা।

আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বছরের যেকোনো সময়েই আইসক্রিম পাওয়া যায়।
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বছরের যেকোনো সময়েই আইসক্রিম পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

এর কিছুদিন পর, খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৪০০ সালে, পারস্যে রাজপরিবারের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ এক ধরনের ঠাণ্ডা খাবার। এতে থাকত সেমাই, গোলাপজল, বরফ, ফল, জাফরানসহ নানা সুগন্ধি উপকরণ। সেই রাজকীয় খাবারই পরে আইসক্রিমের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেয়।

আজও ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিমের নাম বাসতানি সোনাতি। এটি তৈরি হয় পেস্তা, ভ্যানিলা, জাফরান, গোলাপজল, দুধ, ডিম ও চিনি দিয়ে। অনেক সময় এর ভেতরে জমাট ক্রিমের ছোট ছোট টুকরোও থাকে। তাই এর স্বাদও হয় একেবারে আলাদা।

ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে-এর সূচনা হয় ১৯৮৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এই বিশেষ দিবস ঘোষণা করেন।
ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে-এর সূচনা হয় ১৯৮৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এই বিশেষ দিবস ঘোষণা করেন। ছবি: সংগৃহীত

একসময় অবশ্য আইসক্রিম সবার নাগালের খাবার ছিল না। গরমের দিনে বরফ সংগ্রহ করা ছিল খুব কঠিন। তাই এটি খেতে পারতেন মূলত ধনী ও রাজপরিবারের মানুষ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বছরের যেকোনো সময়েই আইসক্রিম পাওয়া যায়।

ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে-এর সূচনা হয় ১৯৮৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এই বিশেষ দিবস ঘোষণা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আইসক্রিম পছন্দ করে। তাই এমন জনপ্রিয় একটি খাবারের জন্য একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত। তিনি শুধু এই দিবসই নয়, পুরো একটি মাসকেও আইসক্রিম মাস হিসেবে ঘোষণা করেন।

আইসক্রিম এখন আর কোনো একটি দেশের খাবার নয়। পৃথিবীর দেশেই এখন আইসক্রিম পাওয়া যায়।