সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সুরক্ষায় ১৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি টাকা।
ছবি: পিআইডি

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি টাকা।

একনেকের সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় ডাটা সেন্টারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। প্রতিদিন তথ্যের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো রয়েছে। এগুলোকে সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়া জরুরী কাজ। এজন্য আমরা বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি এর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি অনুমোদন করেছি।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) জুলাই, ২০১৯ থেকে জুন, ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সেই সঙ্গে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও ১১টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাকী ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে না গিয়ে প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের কাছে দেওয়ার যে বিধান করা হয়েছিল, তার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। এ কারণে গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন প্রায় তিনগুণ বেশি হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-জিএনএস করস এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প, যার খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্প, এর জন্য ব্যয় হবে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড় ভূমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিংওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এছাড়া খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদীপুন:খনন ড্রেজিংয়ে মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্প, এর খরচ হবে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

Comments

The Daily Star  | English

Quota protests: How the day unfolded

Quota protesters continued their demonstrations Wednesday amid violent clashes with law enforcers across the country

49m ago