অষ্টম রাউন্ডে এসে ডাক পেলেন মাশরাফি, খেলবেন ঢাকায়

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর আগে ছয়টি বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর চারটি শিরোপাই হাতে উঠেছে মাশরাফির। সে খেলোয়াড়কে সুযোগ পেয়েও প্রথম দুই রাউন্ডে নেয়নি কোন দল।
Mashrafe Bin Mortaza
রংপুরকে জেতানোয় বড় অবদান অধিনায়ক মাশরাফির। ছবিঃ ফিরোজ আহমেদ

ব্যপারটা বেশ বিস্ময়করই ছিল। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক তিনি। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দারুণ সফল তিনি। এর আগে ছয়টি বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর চারটি শিরোপাই হাতে উঠেছে মাশরাফির। সে খেলোয়াড়কে সুযোগ পেয়েও প্রথম সাত রাউন্ডে নেয়নি কোন দল। অষ্টম রাউন্ডে এসে তাকে দলে নিয়েছে ঢাকা প্লাটুন।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বেশ ভালোই কাটছিল মাশরাফির। কিন্তু বিশ্বকাপে আহামরি কিছু করতে পারেননি অধিনায়ক। ছন্দহীনতায় ভুগেছেন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে। খেলেননি কোন ঘরোয়া ক্রিকেটও। এছাড়া রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্তও হয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে তার প্রতি আগ্রহ তেমন দেখা যায়নি কোন দলের। তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় ডাক পেয়েছেন। এর আগে প্রথম দুই আসরে ঢাকায় খেলেছিলেন মাশরাফি।

এদিন রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত প্লেয়ার্স ড্রাফটে লটারিতে প্রথমে খেলোয়াড় সুযোগটা পেয়েছিল খুলনা টাইগার্স। তারা বেছে নেয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে। এরপর পায় ঢাকা প্লাটুন। ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে দলে টানে তারা। এরপর লিটন কুমার দাসকে রাজশাহী রয়্যালস, মাহমুদউল্লাহকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, মোস্তাফিজুর রহমানকে রংপুর র‍্যাঞ্জার্স, সৌম্য সরকারকে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সিলেট থান্ডার্স।

দ্বিতীয় দফায় শুরুতে খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ মিলে সিলেটের। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনকে বেছে নেয় তারা। এরপর পেসার আল-আমিন হোসেনকে কুমিল্লা, তরুণ ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখকে রংপুর, ইমরুল কায়েসকে চট্টগ্রাম, আফিফ হোসেন ধ্রুবকে রাজশাহী, এনামুল হক বিজয়কে ঢাকা এবং শফিউল ইসলামকে বেছে নেয় খুলনা।

ড্রাফটে যে সকল খেলোয়াড় টেনেছে দলগুলো

খুলনা টাইগার্স: মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শামসুর রহমান, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শহিদুল ইসলাম, আলিস আল ইসলাম, তানভির ইসলাম, রাইলি রুশো, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, মোহাম্মদ আমির, নাজিবুল্লাহ জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

ঢাকা প্লাটুন: তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, হাসান মাহমুদ, শেখ মেহেদী হাসান, আরিফুল হক, মুমিনুল হক, শুভাগত হোম, মাশরাফী বিন মুর্তজা, রকিবুল হাসান, জাকের আলী অনিক, থিসারা পেরেরা, লরি ইভান্স, ওয়াহাব রিয়াজ, আসিফ আলী, লুইস রিচ ও শাহিদ আফ্রিদি।

রাজশাহী রয়্যালস: লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, ফরহাদ রেজা, তাইজুল ইসলাম, অলক কাপালী, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ইরফান শুক্কুর, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি, নাহিদুল ইসলাম, রবি বোপারা, হজরতউল্লাহ জাজাই, মোহাম্মদ নেওয়াজ ও মোহাম্মদ ইরফান।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, এনামুল হক জুনিয়র, মুক্তার আলী, পিনাক ঘোষ, নাসুম আহমেদ, জুনায়েদ সিদ্দিকি, ক্রিস গেইল, কেসরিক উইলিয়ামস, আভিস্কা ফের্নান্ডো, রায়াদ এমরিত, গ্রায়েম বার্ড ও ইমাদ ওয়াসিম।

রংপুর র‍্যাঞ্জার্স: মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আরাফাত সানি, জহুরুল ইসলাম অমি, তাসকিন আহমেদ, জাকির হাসান, ফজলে মোহাম্মদ রাব্বি, নাদিফ চৌধুরী, সঞ্জিত শাহা, মোহাম্মদ নবি, শাই হোপ, লুইস ব্রেগোরি ও ক্যামেরুন ডেলপোর্ট।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: সৌম্য সরকার, আল-আমিন হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, সাব্বির রহমান, সানজামুল ইসলাম, আবু হায়দার রনি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সুমন খান, ফারদিন হোসেন অনি, কুশল পেরেরা, মুজিব উর রহমান, ডেভিড মালান ও দাসুন শানাকা।

সিলেট থান্ডার: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল ইসলাম অপু, সোহাগ গাজী, রনি তালুকদার, নাঈম হাসান, দেলোয়ার হোসেন, মনির হোসেন খান, রুবেল মিয়া, শারফিন রাদারফোর্ড, শফিকুল্লাহ শাফাক, নাবিনুল হক, জনসন চার্লস ও জীবন মেন্ডিস।

Comments