ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে সেরা দশে ওয়ার্নার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রি-শতক তুলে নিয়ে অপরাজিত থেকেছেন ৩৩৫ রানে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দশম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
david warner
ডেভিড ওয়ার্নার। ছবি: আইসিসি টুইটার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রি-শতক তুলে নিয়ে অপরাজিত থেকেছেন ৩৩৫ রানে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দশম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) অ্যাডিলেডে দিবা-রাত্রির টেস্টের দ্বিতীয় দিনে রেকর্ড বইতে নিজের নাম উঠিয়েছেন বাঁহাতি ওয়ার্নার। আগের দিনের ১৬৬ রান নিয়ে খেলতে নেমে সপ্তম অজি ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার অসামান্য অর্জনের পর স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ৩ উইকেটে ৫৮৯ রানে।

পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে শাসন করে দিনের প্রথম সেশনে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেন ওয়ার্নার, মুখোমুখি হওয়া ২৬০তম বলে। এরপর দ্বিতীয় সেশনে ছুঁয়ে ফেলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি, ইনিংসের ১২০তম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মাদ আব্বাসকে বাউন্ডারি মেরে। ৩৮৯ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর তিনি অপরাজিত থাকেন ৩৩৫ রানে। ৪১৮ বলের ইনিংসে ৩৯টি চার ও ১টি ছয় মারেন তিনি। অ্যাডিলেডের মাঠে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।

দিবা-রাত্রির টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ওয়ার্নার। এর আগে ২০১৬ সালে দুবাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০২ রান করেছিলেন পাকিস্তানের আজহার আলি যিনি বর্তমানে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তিন বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে। ২০১৬ সালে চেন্নাইতে হার না মানা ৩০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ভারতের করুন নায়ার। প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।

ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে স্বদেশী কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান ও সাবেক দলনেতা মাইকেল ক্লার্কের পাশেও বসেছেন ওয়ার্নার। একাধিক ২৫০+ রানের ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছেন কেবল এই তিন অজিই। ব্র্যাডম্যান পাঁচবার ও ক্লার্ক দুবার আড়াইশোর বেশি রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়ার্নারও দ্বিতীয়বারের মতো ২৫০+ রানের ইনিংস খেললেন। তার আগের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ২৫৩ রান।

প্রথম দিনের ১ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে এদিন মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে মাত্র ৫৪ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে আরও ২৮৭ রান যোগ করে তারা।

আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান মারনাস লাবুশেন ফেরেন ১৬২ রান করে। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়ার্নারের সঙ্গে তার জুটিটা ছিল ৩৬১ রানের। দিবা-রাত্রির টেস্টে এটি যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

এই প্রতিবেদন লেখার সময়, পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে রাতের খাবারের বিরতির আগ পর্যন্ত ১ উইকেটে ৩ রান তুলেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে)

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ৩০২/১) ১২৭ ওভারে ৫৮৯/৩ (ইনিংস ঘোষণা) (ওয়ার্নার ৩৩৫*, লাবুশেন ১৬২, স্মিথ ৩৬, ওয়েড ৩৮*; আব্বাস ০/১০০, শাহিন ৩/৮৮, মুসা ০/১১৪, ইয়াসির ০/১৯৭, ইফতিখার ০/৭৫, আজহার ০/৯)।

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৬ ওভারে ৩/১ (মাসুদ ১*, ইমাম ২, আজহার ০*; স্টার্ক ০/১, কামিন্স ৩/০)।

Comments