খেলা

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহর বিশ্বাস, এবার বিপিএলের সুফল পাবে বাংলাদেশ

বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল ভারত। অথচ এক যুগ আগেও একচ্ছত্র রাজত্বটা করত অস্ট্রেলিয়া। এক আইপিএল আয়োজনেই বদলে গিয়েছে ভারতের ক্রিকেট। একই আদলের একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশেও হচ্ছে প্রায় আট বছর ধরে। কিন্তু সে অর্থে টি-টোয়েন্টিতে উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তার মূল কারণই ছিল মানহীন উইকেট। তবে এবার বেশ উন্নত মানের উইকেট তৈরি করা হয়েছে বিপিএলের জন্য। আর তাতে দেশের ক্রিকেটে উন্নতির আভাস দেখতে পাচ্ছেন ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল ভারত। অথচ এক যুগ আগেও একচ্ছত্র রাজত্বটা করত অস্ট্রেলিয়া। এক আইপিএল আয়োজনেই বদলে গিয়েছে ভারতের ক্রিকেট। একই আদলের একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশেও হচ্ছে প্রায় আট বছর ধরে। কিন্তু সে অর্থে টি-টোয়েন্টিতে উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তার মূল কারণই ছিল মানহীন উইকেট। তবে এবার বেশ উন্নত মানের উইকেট তৈরি করা হয়েছে বিপিএলের জন্য। আর তাতে দেশের ক্রিকেটে উন্নতির আভাস দেখতে পাচ্ছেন ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বরাবরই সেখানকার উইকেট হয় ব্যাটিং-বান্ধব। সেখানে অবশ্য সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ মিলছে না বাংলাদেশের। খেলতে হবে প্রথম রাউন্ডে। কাগজে-কলমে প্রথম রাউন্ড বলা হলেও এক অর্থে সেটা বাছাই পর্ব। তাই চ্যালেঞ্জটা একটু বেশিই টাইগারদের। আর সেই চ্যালেঞ্জ নিতে এবারের বিপিএল সাহায্য করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের উইকেটে খেলা হওয়ায় ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়বে, মনে করেছেন মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মাশরাফি বলেছেন, ‘উইকেট ভালো হচ্ছে এই বিপিএলে। উইকেটের কারণে খেলা ভালো হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে কোথাও যাবে, তখন এমন উইকেটই পাবে। বোলারদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে। ব্যাটসম্যানদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যদি হাত খুলে খেলা যায়। আইপিএলে সাধারণত যেটা হয়। আইপিএলে বোলিংয়ের অনেক অপশন থাকে।’

শুধু ব্যাটসম্যানদের নয়, এমন উইকেট বোলারদের জন্যও ভালো হবে মনে করছেন মাশরাফি। আর নিজের কথার পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক, ‘ভালো উইকেট না পেলে আমাদের বোলাররা চিন্তা করে এই বোলিংই আমাদের শক্তি। কিন্তু (এবারের বিপিএলের) এসব উইকেটে বোলিং করলে বোঝা যাবে যে শক্তির দিক আরও বাড়াতে হবে। এবার যে উইকেটগুলো পাচ্ছে, খুব ভালো যে বোলাররা সামনের বিশ্বকাপের আগে নিজেদের অপশন তৈরি করতে পারবে।’

মাশরাফির সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রায় একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, ‘আমি এতটুকু বলতে পারি যে আমরা ঢাকায় যে উইকেটে খেললাম, এখানে (চট্টগ্রামে) যে উইকেটে খেললাম, খুবই আন্তর্জাতিক মানের। আমার কাছে মনে হয়, বিশেষ করে বোলারদের জন্যও যথেষ্ট সুবিধা ছিল। ব্যাটসম্যানদের জন্য অবশ্যই ভালো উইকেট। কিন্তু আমার মনে হয়, বোলারদের জন্য ভালো সুযোগ ছিল। এ ধরনের উইকেটে আপনি যখন খেলবেন, ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনার স্কিল অবশ্যই ভালো হতে হবে। আর বোলারদের স্কিলও আরও ভালো হবে আমারা কাছে মনে হয়।’

অথচ আগের দিন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বল হাতে বেদম পিটুনিই খেয়েছেন মাশরাফি। ৩ ওভার করেই দিয়েছেন ৪২ রান। পাননি কোনো উইকেট। ঢাকার উইকেটেও এবার প্রায় একই অবস্থা। ব্যাটসম্যানদের মনের মতো উইকেট। আগের দিন দলীয় রেকর্ড রানের খেলায় হেরেছে ঢাকা। তারপরও এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উইকেট মনে ধরেছে ঢাকা অধিনায়কের। চট্টগ্রাম দলনেতা মাহমুদউল্লাহও এমন উইকেট পেয়ে ভীষণ খুশি। দুজনেরই বিশ্বাস, এবারের বিপিএল থেকে অন্তত ভালো কিছু যোগ হবে দেশের ক্রিকেটে।

Comments