‘তারা সন্ত্রাসী এবং বহিরাগতদের নিয়ে আসছে’

ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাত্র দুদিন বাকী। অনেকেই আশঙ্কা করছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাত্র দুদিন বাকী। অনেকেই আশঙ্কা করছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ‘বহিরাগত’দের রাজধানীতে আনা হচ্ছে বলে একে অপরকে দুষছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি বহিরাগত সন্ত্রাসীদের শহরে নিয়ে এসেছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য। বিএনপি নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন দল ‘৩০ লাখ বহিরাগত’এবং অস্ত্র নিয়ে এসেছে ঢাকায়।

নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা এই আশংকা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গতকাল (২৯ জানুয়ারি) গুলশানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলো।

গত ২৬ জানুয়ারি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সমর্থক এবং আ.লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ওয়ারীতে সংঘর্ষ হয়।

এর আগে, ২১ জানুয়ারি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হন। মিরপুর এলাকায় তাবিথ ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রিটার্নিং অফিসারদের জানিয়েছে যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ডিএনসিসি অঞ্চলে।

এমন পরিস্থিতিতে, শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আজ সকাল থেকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার কথা।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম ও আবদুল বাতেন বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আজ মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হবে।

অভিযোগ

নির্বাচনের আগে বিএনপি ঢাকায় বহিরাগতদের নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও পর্যন্ত ভালো আছে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো বিএনপি বহিরাগত এবং সন্ত্রাসীদের ঢাকা শহরে নিয়ে আসছে।  

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য আছে যে নির্বাচনের দিন এই বহিরাগতরা ভোটকেন্দ্র রক্ষার নামে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারে। তারা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে আছে। এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

ওবায়দুল কাদেরের করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এটিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ৩০ লাখ বহিরাগতকে রাজধানীতে নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, “তারা অস্ত্রও নিয়ে আসছে।”

গতকাল রাজধানীতে ইশরাকের বাসায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় তিনি বলেন, “এই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে আসার সাহস করেছে কারণ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না।”

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র

পুলিশের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলেছেন, মোট ২,৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫ শতাংশই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ।

আবুল কাশেমের মতে, ডিএসসিসি এলাকার ১,৩১৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল বাতেন বলেছেন, ডিএনসিসির অধীনে থাকা ১,১৫০টি কেন্দ্রের ৬৩ শতাংশই গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে পুলিশ একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।

পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে আমরা কোনো ভোট কেন্দ্র সুরক্ষিত নয় এমন বলব না, কারণ এটি সকলের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। যার কারণে আমরা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করেছি এবং সেই কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।”

 ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য থাকবেন বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। আর ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভোট কেন্দ্রে থাকবে ১৮ জন সদস্য।

বিজিবি টহল শুরু করেছে আজ

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬৫টি প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে মোতায়েন করা হয়েছে। আরও ১০টি প্লাটুন প্রস্তুত থাকবে প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য।

প্রতি দুই ওয়ার্ডের জন্য এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিজিবির সদস্যরা ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট চার দিনের জন্য টহল দিবেন।

বিজিবির ডিরেক্টর অপারেশন লে: কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, বিজিবির সদস্যরা আজ সূর্যোদয়ের পর থেকে শহরে টহল দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সংরক্ষিত থাকবে।

আজ রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে

তিন সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা আজ মধ্যরাতে শেষ হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তারা ১৩৩টি অভিযোগ পেয়েছেন।

এই অভিযোগগুলোর প্রায় সবই বিএনপির মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের করা অভিযোগ বলে তারা জানান। বিএনপির কর্মীদের অভিযোগ আ.লীগ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের করছে।

দুজন রিটার্নিং অফিসারই দাবি করেছেন যে প্রায় সব অভিযোগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English

The bond behind the fried chicken stall in front of Charukala

For close to a quarter-century, a business built on mutual trust and respect between two people from different faiths has thrived in front of Dhaka University's Faculty of Fine Arts

1h ago