পাবনায় দুই বোনের মৃত্যু, খাদ্যে বিষক্রিয়া ধারণা চিকিৎসকের

পাবনার ফরিদপুরে আকস্মিক অসুস্থতায় সাথী ও বিথী নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সাথী নিজ বাড়িতে ও শনিবার সকালে বীথি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ফরিদপুরে আকস্মিক অসুস্থতায় সাথী ও বিথী নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সাথী নিজ বাড়িতে ও শনিবার সকালে বীথি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

নিহত সাথী খাতুন ও বীথি খাতুন পাবনার হাদল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের শহিদুল প্রামাণিকের মেয়ে। সাথী অষ্টম শ্রেণির ও বিথী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সাথী ও বিথী। এরপর তারা মাঝে মাঝেই বমি শুরু করে। বাড়ীর সদস্যরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মনে করে দুই বোনকে প্রথমে গ্রামের পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করায়। তাদের মধ্যে বিথীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হপসাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে সাথী বাড়িতে মারা যায় এবং শনিবার সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মারা যায় বিথী।

পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মেহেদি ইকবালের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে।

তিনি বলেন, “পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে নিহতদের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, সাথী-বিথী চানাচুর খেয়েছিল। ধারণা করছি, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে”।  

এদিকে, দুই বোনের মৃত্যুর পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। দুই গৃহবধূ একই উপসর্গ নিয়ে পাবনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানিয়েছেন, প্রশাসন এ বিষয়ে নজর রাখছে। স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। একটি মেডিকেল দল এলাকা পরিদর্শন করেছে বলেও জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন বলেন, “পরিদর্শক দল এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং অসুস্থতা বিষয়ে তদন্ত করেছে। আগামী কাল রোববার তারা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আসবেন এবং এখানে ভর্তি রোগীদের পরীক্ষা করবেন। তারপর তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন। আর তাতে নিশ্চিত হওয়া যাবে রোগটি সম্পর্কে”।

সেই সঙ্গে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

'Why did they kill my father?'

Slain MP’s daughter demands justice, fair investigation

1h ago