‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ’

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের সহায়তা করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।
সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: স্টার

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের সহায়তা করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

তিনি বলেন,‘মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সংকট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে অনেকের আগ্রহ ও ভিত্তিহীন ধারণা আছে। ভারত বাংলাদেশের মানবিক বোধের গভীর প্রশংসা করে। কারণ, বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।’

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) ও ভারতীয় হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ ও বিস’র চেয়ারম্যান ফজলুল করিম।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘আপনারা যে বোঝা বহন করছেন, আমরা তা স্বীকার করি ও সমবেদনা জানাই। আমরাই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সত্যিকারের বন্ধু দেশ। যেখানে অন্য দেশগুলো চায় দুদেশের এ সমস্যা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলুক, সেখানে আমরা পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে একটা সমাধান চাই।’

‘রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসন ও সম্মানজনক জীবন ফিরে পেতে সহায়তা করতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ। এ প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ ও টেকসই’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণসামগ্রীর পাঁচটি চালান সরবরাহ করেছি। ভব্যিষ্যতে আরও সহায়তার জন্যও আমরা প্রস্তুত। একইসঙ্গে রাাখাইনে বসতঘর নির্মাণসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বিনিয়োগ করছি। যাতে সেখানে মানুষ ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং স্বল্প সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতি মনোযোগী হয়।’

‘আমরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সব পর্যায়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালাচ্ছি। আলোচনায় আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ করা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে সাহায্য করা ও বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার একটা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি’, বলেন তিনি।

শ্রিংলা বলেন, ‘বিশাল এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ‍ও ভারতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ বিষয়ে আমাদের পরার্মশ, বাগাড়ম্বর না করে এই সমস্যার মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধানে প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হোক।’

আরও পড়ুন: 

সিএএ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে: শ্রিংলা

‘আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা হুমকিতে পড়বে, এমন পরিস্থিতি দেখতে চাই না’

Comments

The Daily Star  | English

Cyclones in Bangladesh: Fewer but fiercer since the 90s

Though the number of cyclones in general has come down in Bangladesh over the years, the intensity of the cyclones has increased, meaning the number of super cyclones has gone up, posing a greater threat to people in coastal areas, a recent study found

33m ago