বড়বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় রাসেলকে হত্যা করা হয়

ঠাকুরগাঁও সদরে নিহত শিক্ষার্থী রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল প্রতিবেশী কিশোরদের একটি দল। বড় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাসেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই কিশোর গ্যাং।
Thakurgaon
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

ঠাকুরগাঁও সদরে নিহত শিক্ষার্থী রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল প্রতিবেশী কিশোরদের একটি দল। বড় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাসেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই কিশোর গ্যাং।

আজ রোববার দুপুর ৩ টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত মো. রাসেল (১৪) ভোপলা গ্রামের সাদেকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয় কয়েকজন যুবক তার বড় বোনকে উত্ত্যক্ত করত। এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে রাসেলের মনোমালিন্য হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলে ২৪ এপ্রিল কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা কৌশলে রাসেলকে তার বাড়ির পার্শ্বে ঈদগাঁহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ পাশের একটি ধান খেতে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। 

পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে ধান খেত থেকে গলাকাটা অবস্থায় স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ওই দিনেই নিহতের বড়ভাই রাজু আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

মামলা দায়েরের পর তিনি এবং ঠাকুরগাঁও থানার ওসি তানভিরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দন কুমার ঘোষসহ অন্যান্যরা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সক্ষম হন বলে জানান পুলিশ সুপার।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাত জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারমধ্যে তিনজনের জবানবন্দি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম রেকর্ড করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Comments