করোনা রোগীদের সেবায় ৩ ভাই

করোনা আক্রান্তরা যখন নানাভাবে সামাজিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন, তখন করোনা রোগীদের সেবায় স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন তিন ভাই।
ফৌজদারহাটের ফিল্ড হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন তিন ভাই মোস্তফা নুর বিপ্লব, সাজিদ কবির সাজি, ও স্বাধীন। ছবি:স্টার

করোনা আক্রান্তরা যখন নানাভাবে সামাজিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন, তখন করোনা রোগীদের সেবায় স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন তিন ভাই।

করোনা রোগীদের দেখভাল করতে তারা যোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে নির্মিত দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালে।

তারা হলেন- মোস্তফা নুর বিপ্লব (৩০), সাজিদ কবির সাজি (২২) ও স্বাধীন (২২)।

গত ২১ এপ্রিল থেকে ফিল্ড হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে কাজ করছেন তিন সহোদর।  

পরিবার-পরিজন ছেড়ে ফিল্ড হাসপাতালে থাকছেন তারা। সেখানে করোনা রোগীদের গোসল, কাপড় ধোয়া, বাথরুম পরিচ্ছন্ন রাখার মতো কাজ করে যাচ্ছেন অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে।

নগরীর আগ্রাবাদে বসবাস এ তিন ভাইয়ের। করোনী রোগীদের সেবা ছাড়াও সমাজের পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে নানা সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত আছেন তারা।

সাজিদ কবির সাজি পড়াশোনা করছেন চীনের ন্যানচাং বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। দেশে ফিরেছেন গত ৩০ জানুয়ারির ৩০ তারিখ।

আসার পর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ করেছেন দরিদ্র মানুষের মধ্যে। চালিয়েছেন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।

সাজি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘করোনা রোগীদের সমাজে যেভাবে দেখা হচ্ছে সেটি খুবই দুঃখজনক। বাস্তবতা হলো আমরা করোনা আক্রান্তদের এভাবে অবহেলা করে নিজেরা কখনো নিরাপদ থাকতে পারব না।’

সাজি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নার্স, চিকিৎসকের ঘাটতি আছে। তরুণরা যদি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসে তাহলে করোনা সংকট মোকাবেলায় সাহস বাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ সংকট থেকে আমরা বের হতে পারব না। তাই আমরা এগিয়ে এসেছি।’

এসময় সহ স্বেচ্ছাসেবকদেরও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন সাজি।

তিন ভাইয়ের আরেকজন নুর মোস্তফা বিপ্লব বলেন, ‘ঝুঁকি আছে জেনেও আমরা স্বেচ্ছায় করোনা রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছি। বাকি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিলে আমরা করোনা রোগীদের স্বস্তি দে‌ওয়ার চেষ্টা করছি। যতদিন জীবন আছে, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।’

চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবী তিন শিফটে করোনা রোগীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।

‘তিন ভাইসহ যে তরুণরা এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাদের আমরা অভিবাদন জানাই’, বলেন তিনি।

 

Comments

The Daily Star  | English

Govt may go for quota reforms

The government is considering a logical reform in the existing quota system in public service, but it will not take any initiative to that effect or give any assurances until the matter is resolved by the Supreme Court, where the issue is now pending.

1d ago