শুক্রবারেও চালু থাকবে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও বেনাপোল বন্দর দিয়ে চালু থাকছে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।
benapole
ছবি: সংগৃহীত

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও বেনাপোল বন্দর দিয়ে চালু থাকছে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুদেশের ব্যবসায়ী সংগঠন, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় শুক্রবারও আমদানি-রপ্তানি চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মামুন তরফদার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামুন তরফদার বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে শুক্রবার ছুটির দিনেও আমদানি-রপ্তানি সচল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানি সচল রাখার জন্য শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও লোকবল বৃদ্ধি করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত আড়াই মাস ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ফলে, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকে পড়ে। চলতি মাসের প্রথম দিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়। তবে, ট্রাক ড্যামারেজ বাবদ প্রত্যেক ট্রাককে ২০ হাজার রূপী করে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস ও বন্দর খোলা রেখে আমদানি-রপ্তানি সচল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি সচল থাকলেও শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে ট্রেজারি ব্যাংক বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া বন্দরে ওভারটাইম ও বন্দর মাশুলে হলিডে চার্জ আরোপ করায় আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।’

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করে থাকে। দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের কাঁচামাল আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। কিন্তু, করোনার কারণে বন্দরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আটকে যাওয়ায় ওই সময়কার বন্দর মাশুল মওকুফ করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকার চট্টগ্রাম বন্দরে করোনার মধ্যে আটকে থাকা পণ্যের বন্দর মাশুল মওকুফ করেছেন। অবিলম্বে বেনাপোল বন্দরেও বন্দর মাশুল মওকুফ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে। বেনাপোল কাস্টমস হাউস সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খুলে রাখা হয়েছে ব্যবসায়ীদের সেবা দেওয়ার জন্য। শুক্রবার আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেই কাস্টমসের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Comments

The Daily Star  | English

Recovering MP Azim’s body almost impossible: DB chief

Killers disfigured the body so much that it would be tough to identify those as human flesh

33m ago