করোনা আপডেট: ফরিদপুর, ফেনী, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, কুমিল্লা

গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে আরও ১১৪ জন এবং ফেনীতে নতুন করে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন জন ও কুমিল্লায় করোনা উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ জেলায় নতুন করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
Coronavirus-1.jpg
করোনাভাইরাস। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে আরও ১১৪ জন এবং ফেনীতে নতুন করে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন জন ও কুমিল্লায় করোনা উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ জেলায় নতুন করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আজ রোববার দ্য ডেইলি স্টারের স্থানীয় সংবাদদাতার এসব তথ্য জানান।

ফরিদপুরে নতুন করে আরও ১১৪ জনের করোনা শনাক্ত

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ পুলিশ সদস্য, তিন চিকিৎসকসহ আরও ১১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হলো ২ হাজার ৩৬৮ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুরে নতুন শনাক্তদের মধ্যে তিন চিকিৎসক আছেন। ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স ও হাইওয়ে পুলিশসহ মোট ২০ জন  পুলিশ সদস্য আছেন। এ ছাড়াও, নয় স্বাস্থ্য কর্মী, কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মী আছেন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাও আছেন।

ফরিদপুরে নতুন করে যে ১১৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ফরিদপুর  সদরে ৬৯ জন, বোয়ালমারীতে ১২ জন, নগরকান্দা ও সদরপুরে  ৭ জন করে, চরভদ্রাসনে ৬ জন, আলফাডাঙ্গায় ৫ জন, মধুখালী ও  ভাঙ্গায় তিনজন করে এবং সালথায় ২  জন রয়েছেন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৩৫  জন নারী ও পুরুষ ৭৯ জন।

এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ২ হাজার ৩৬৮ জনের মধ্যে ফরিদপুর সদরে  ১ হাজার ১২৭ জন, ভাঙ্গায় ৩৫১ জন, বোয়ালমারীতে ২৭৭ জন, সদরপুরে ১৪৫ জন, নগরকান্দায় ১৪৫ জন, চরভদ্রাসন ১০২, মধুখালীতে ৭৫ জন,  সালথায় ৭৩ জন ও আলফাডাঙ্গায় ৭৩ জন রয়েছেন।

ফেনীতে নতুন আক্রান্ত ১০ জন

ফেনীতে নতুন করে ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০২ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৬২১ জন ও মারা গেছেন ১৭ জন।

ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল এসএম মাসুদ রানা আজ রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নতুন আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ৩ জন, দাগনভূঁঞা উপজেলায় ৫ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় এক জন, ও সোনাগাজী উপজেলায় একজন আছেন।

ফেনীর দাগনভূঁঞায় একজনের মৃত্যুর দুই দিন পর জানা গেল তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আজ তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

দাগনভূঁঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুবাইয়াত বিন করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ জনের মৃত্যু 

করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে দুই জনসহ চার ঘণ্টার ব্যবধানে তিন জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানস কুমার মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল পাঁকাপোল এলাকার বাসিন্দা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তাকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। একই সময় কলারোয়ার হামিদপুর গ্রাম থেকে আরও এক নারী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি নিয়ে আইসোলেশনে ইউনিটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আধা ঘণ্টা পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তারা দুজনই মারা যান। একইভাবে শুক্রবার দুপুরে দেবহাটা উপজেলার খানজিয়া গ্রামের এক গৃহবধূ করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এলে তাকে প্রথমে আইসোলেশন ইউনিটে ও পরে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মারা যান।

তাদের শরীরে করোনা ছিল কি না তা জানতে সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, মৃত্যু ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

নোয়াখালীতে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু

নোয়াখালীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫০ জনে।

আজ বিকেলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস বলেন, উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সুজায়েতপুর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে গত ৩০ জুন হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নেন ও করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে যান। ৪ জুন তার পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। এরপর থেকে নিজ বাড়ীতে হোম আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার পর জেলা শহর মাইজদীতে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেও তার পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ীতে রেখেই চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। শনিবার সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে নিজ বাড়ীতেই মারা যান তিনি। পরে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় উনার লাশ দাফন করা হয়। এ নিয়ে বেগমগঞ্জে করোনায় মারা গেছেন ২৩ জন।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শায়েলা সুলতানা ঝুমা জানান, সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের এক ব্যক্তি উপসর্গ নিয়ে গত ১ জুলাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে যান। গত ২ জুলাই তার শরীরের করোনা শনাক্ত হয়। নিজ বাড়ীতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে মাইজদী কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সুবর্ণচর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যু হলো।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বেগমগঞ্জে ২৩ জন, সোনাইমুড়ীতে ৫ জন, সেনবাগে ৬ জন, সুবর্নচরে ১ জন, সদর উপজেলায় ৮ জন, চাটখিলে ৩ জন, কবিরহাটে ৩ জন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১ জন।’

গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় আরও ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলায় ১০ জন, কবিরহাটে ৯ জন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন। জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৪ জন।

কুমিল্লায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স ৪৬ বছর থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং তিন জনের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে।

আজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. ইশতিয়াক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

Comments

The Daily Star  | English

Fixed expenses to eat up 40pc of next budget

The government has to spend about 40 percent of the next budget on subsidies, interest payments, and salaries and allowances of government employees, which will limit its ability to spend on social safety net, health and education.

1h ago