বাচ্চার নিরাপত্তায় ২ মাস উপোস থাকে মা অজগর

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে গতকাল বুধবার রাত থেকে অজগর সাপের তা দেওয়া ডিমগুলো ফুটতে শুরু করেছে। গত ২৮ মে ৩১টি ডিম দেয় সাপটি।
ডিম থেকে ফুটতে শুরু করেছে অজগর সাপের বাচ্চা। ছবি: স্টার

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে গতকাল বুধবার রাত থেকে অজগর সাপের তা দেওয়া ডিমগুলো ফুটতে শুরু করেছে। গত ২৮ মে ৩১টি ডিম দেয় সাপটি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব অজগরের ডিম পারার ও বাচ্চা ফোঁটার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ৬০ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর ডিম ফুটে ছানা বেরিয়ে আসে। মা অজগর বাচ্চার জন্য দুই মাস পর্যন্ত ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে একটু সময়ের জন্যও সরে না। এই সময় সে ডিমগুলোকে এমনভাবে নিরাপত্তা দেয় যেন একটু পানি পর্যন্ত খায় না বা ফুরসত নেয় না। বাচ্চা ফোঁটার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সে ডিম থেকে নিচে নেমে আসে।

তিনি আরও জানান, মা অজগরটি গত দুই মাস ডিমগুলোকে মাঝখানে রেখে কুণ্ডলি পাকিয়ে ডিমে তা দিয়ে বসে ছিল। পাশেই পুরুষ অজগরটি সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে পাহাড়ায় নিযুক্ত থাকে।

সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ অজগরটির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও দেখভাল করছেন।

২০০২ সালে এবং ২০০৪ সালের ১৩ মে ৩৮টি করে ডিম দেয় অজগরটি। সেসময়ও ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুটেছিল ৩২টি। ২০১১ সালের মে মাসে অজগরটি ৩০টি ডিম দেয়। গত বছর ৯ জুন সাপটি ৩২টি ডিম দিয়েছে।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, বনে-জঙ্গলে থাকলে অজগর সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে ৫০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়। এরা গর্ত, গুহা বা পুরনো গাছের খোঁড়লে ডিম পাড়ে। ১৯৯৯ সালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবুর বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় এই অজগর জুটি। তা দেওয়া সব ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে প্রায় দুদিন লাগে। সবগুলো ডিম ফোঁটার পরে এগুলোকে লাউয়াছড়া কিংবা সাতছড়ি অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হবে।

Comments

The Daily Star  | English
Impact of esports on Bangladeshi society

From fringe hobby to national pride

For years, gaming in Bangladesh was seen as a waste of time -- often dismissed as a frivolous activity or a distraction from more “serious” pursuits. Traditional societal norms placed little value on gaming, perceiving it as an endeavour devoid of any real-world benefits.

16h ago