শীর্ষ খবর

বন্যায় ফরিদপুরের ৬ উপজেলায় ১০৮ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

চলতি বন্যায় ফরিদপুরের ছয়টি উপজেলার শতকরা ৩৮ দশমিক ৩৭ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আজ সোমবার ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ফরিদপুরে বন্যায় ডুবে যাওয়া ফসলের খেত। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বন্যায় ফরিদপুরের ছয়টি উপজেলার শতকরা ৩৮ দশমিক ৩৭ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আজ সোমবার ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছয় উপজেলার ৬৩ হাজার ৪২৫ কৃষক।

ফরিদপুরের নয়টি উপজেলার মধ্যে বন্যা কবলিত হয়েছে ফরিদপুর সদর, চর ভদ্রাসন, সদরপুর, নগরকান্দা, সালথা ও ভাঙ্গা উপজেলা। এর মধ্যে ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রোপা আমন ধানের। এসব উপজেলায় বিলে রোপা আমন বপন করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ক্ষতি হয়েছে সাত হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমির।

ফরিদপুর সদরের বন্যা দুর্গত নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আউশ ধান, ১৪ বিঘা জমিতে তিল ও আট বিঘা জমিতে বাদাম রোপণ করেছিলেন। তিন দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় তার সব জমি পানিতে ডুবে যায়। সব ফসল পচে নষ্ট হয়ে যায়।

মনোয়ার হোসেন জানেন না কীভাবে এ ক্ষতি তিনি কাটিয়ে উঠবেন। তিনি বলেন, 'আমরা গৃহস্থ। এ জন্য সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্যও পাই না। এ ছাড়া, জমিতে বালু পড়ে যাওয়ায় আগামীতে চাষাবাদ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।'

ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের উত্তর সাদীপুর গ্রামের কৃষক তোরাব বিশ্বাস বলেন, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সব ধানের গাছ পচে গেছে।

ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, 'বন্যার কারণে ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ একর জমির ধান ও ভুট্টা, ৩০০ একর জমির কলা ও ৫০ একর জমির পাট নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অকল্পনীয়।'

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ছয় উপজেলার ৩৮ হাজার ২০১ হেক্টর ফসলের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৮ হেক্টর জমির ফসল। এর ফলে আউশ ধানের দুই হাজার ৭৬৬ মেট্রিক টন উৎপাদন কম হবে। রোপা আমনের উৎপাদন কমবে এক হাজার ১৩১ মে. টন, সবজি উৎপাদন কমবে ছয় হাজার ৬৯৩ মে. টন এবং কলা উৎপাদন কমবে এক হাজার ৯১৫ মে. টন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মধ্যে সদরপুর উপজেলার ২৭ হাজার ২৪৫ জন, সালথা উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৭৫ জন, সদরে আট হাজার ৫২০ জন, ভাঙ্গায় আট হাজার ৪২৫ জন, নগরকান্দায় তিন হাজার ৫০ জন ও চর ভদ্রাসনে এক হাজার ৭৬০ জন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, 'বন্যায় ফরিদপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামীতে যেন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া যায়, সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।'

কৃষকেরা যেন স্বল্পমূল্যে কৃষি ঋণ পেতে পারেন তার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Comments

The Daily Star  | English