চকরিয়ায় মা-মেয়ে নির্যাতন: ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুলসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় মা-মেয়েকে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় হারবাং ইউপির চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার পারভিন বেগম।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় মা-মেয়েকে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় হারবাং ইউপির চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার পারভিন বেগম।

আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে চকরিয়া থানায় মামলা করেন তিনি।

মামলায় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের মারধরের অভিযোগ এনেছেন বাদী।

হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম ছাড়াও এ মামলায় আসামি হিসাবে  যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, উত্তর হারবাং বিন্দারবান খিলের জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮), মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯) ও এমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২)। 

আসামিদের মধ্যে নাছির, নজরুল ও জসিমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, পলাতক আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে  স্বপরিবারে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার শান্তির হাটে বসবাস করেন। গত ২১ আগস্ট দুপুরে পারভিন বেগম, তার ছেলে এমরান, ছেলের বন্ধু ছুট্টু এবং দুই মেয়ে রোজিনা আক্তার ও সেলিনা আক্তার শেলীকে নিয়ে চকরিয়া উপজেলার হায়দার নাশি এলাকায় ছোট মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তারা প্রথমে মাইক্রোবাস করে সাতকানিয়ার কেরানি হাটে আসেন। তারপর সেখান থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে রওনা দেন। চকরিয়ার হারবাং লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে দুইটি মোটর সাইকেল নিয়ে ছয় জন লোককে তাদের ধাওয়া দিতে দেখেন। এতে অটোরিকশা চালক ভয় পেয়ে হারবাং পহর চাঁদা এলাকায় নির্মাণাধীন রেল লাইনের পাশে নিয়ে যায় তাদের। সেখানে ওই মোটর সাইকেল আরোহীরা তাদের আটক করে কিল ঘুষি মারতে থাকে। এসময় ওই ব্যক্তিরা তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন সেট কেড়ে  নেয়। এরপর তাদের কোমরে রশি বেঁধে মারতে মারতে রাস্তায় হাঁটিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে প্রথমে পারভিন বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শেলীকে লাথি মারেন। এরপর চেয়ার দিয়ে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়েও আঘাত করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে উদ্ধার করে তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গরু চুরির ঘটনা মিথ্যা ও অপবাদ বলে দাবি করেন পারভিন বেগম। জানান, তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে, হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম পলাতক অবস্থা থেকে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন,  তিনি এ ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলেন।  তিনি মা মেয়েকে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য সহযোগিতা করেছেন।

পারভিন বেগম ও তার দুই মেয়ে জামিনে মুক্তি পান গতকাল সোমবার।

আজ বিকালে চকরিয়া থানায় তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাদী পারভিন বেগমের আইনজীবি ইলিয়াছ আরিফ জানান, এ মামলাটি রুজু হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ চাইলে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

 

Comments