খেলা

আবারও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বাদলের

এবারও কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন সাবেক এ ফুটবলার।
badal roy
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচন থেকে ফের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী বাদল রায়। এবারও কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন সাবেক এ ফুটবলার। নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠকদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তৃণমূলের সংগঠকরা বড় অসহায়। তাদের জন্যই আমার মনটা কাঁদত। বিষয়টা তারা কীভাবে নেবে আমি জানি না। তারা হয়তো খুব কষ্ট পাবে। তারপরও আমি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করলাম। যারা প্রার্থী, ভোটার, ডেলিগেটস আছেন, তারা যার যার এলাকার সবাই বড় বড় মানুষ। আপনারা চিন্তা-ভাবনা করেই ভোট দেবেন। আমি চাই, আমার ফুটবল ফেডারেশনে শক্তিশালী একটি কমিটি হোক। যারা কাজ করবেন, তারাই নির্বাচন করুন। যারা কাজ করবেন না, তাদেরকে দয়া করে আপনারা ভোট দেবেন না।’

তিনি আরও জানান, ‘আপনারা জানেন যে, আগামী ৩ অক্টোবর নির্বাচন। আমি মোহামেডানের ক্লাবের সাহস নিয়ে নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছিলাম। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এই ক্লাবেই আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে অনেক পানি ঘোলা হয়েছে। আমি দীর্ঘ দিন বাফুফের সঙ্গে ছিলাম। ফুটবলের অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমার কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে, এই ফুটবল ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। ফুটবল নিয়ে সবসময় কথা বলি, সমালোচনা করি, প্রতিবাদ করি। ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে কিছু করি না। একটাই কথা এখানে যে, আমার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এই শরীর নিয়েও কিন্তু আমি সংগ্রাম করেছি। শুধু ফুটবলকে ভালো রাখার জন্য। আমার মনের অবস্থাটা আপনাদের সবাইকে এখানে একটু বলব। আমার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ একটাই যে, ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব থাকতে হয় সবারই। জীবনের সব জায়গায় ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে নেই। বাফুফেতে সেই চর্চাটা নেই।’

অভিযোগ রয়েছে, ‘বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে’ গত শনিবার নির্বাচন থেকে প্রথমবার সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছিলেন বাদল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পরে বাদলের স্ত্রী মাধুরী রায় তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নিয়ে বাফুফে সদর দপ্তরে পৌঁছেছিলেন। তবে পরদিন সভাপতি পদপ্রার্থীদের তালিকায় তার নাম রেখে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

আরও গুঞ্জন রয়েছে, এখনও চাপ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ বাদলকে। তাই সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে এ বিষয়ে কিছু বলতে না চাইলেও পরবর্তীতে বর্তমান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের দিকে অভিযোগের তীর ছোঁড়েন তিনি, ‘আমি এটা ওভাবে বলতে পারব না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখান থেকে সরে যাচ্ছি (কয়েক দিন আগে করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠেছেন তিনি)। আমাকে ভোট দিলেও আমি কাজ করতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।’

‘প্রশ্ন আসছে, কেন আবার এখানে বসেছি। কারণ, আমার স্ত্রীর তাড়াহুড়ো করেও এক ঘন্টা বেশি লেগেছে সেখানে যেতে। সময় বেশি লেগেছে। সময় চলে যাওয়ার কারণে আইনগতভাবে একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যাটা ইচ্ছা করলে, সালাহউদ্দিন সাহেবের তো শক্তি অনেক, পারতেন সমাধান করতে। আমাকে কেন হয়রানি করছেন, আমি জানি না,’ যোগ করেন বাদল।

Comments

The Daily Star  | English

Trees are Dhaka’s saviours

Things seem dire as people brace for the imminent fight against heat waves and air pollution.

6h ago