শীর্ষ খবর

আদালতের রায় অমান্য করে বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা

আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশপের বাসভবন এবং অফিস সংলগ্ন একটি স্কুল, ক্লিনিক এবং অন্যান্য সেবামূলক কাঠামো তৈরি করতে দুই দশমিক ৪৫ একর জমি কেনে সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিস। ছবি: স্টার

আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার সকালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সিলেট সদর উপজেলার পরগনাবাজার এলাকার খুনিরচকে ওই জমিতে এসে কাজ করা শ্রমিকদের হুমকি দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এসময় তারা সেখানে পিলার দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা প্রতিহত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে লাগানো প্রায় ৫০টি গাছ উপড়ে ফেলে এবং ২৫ লাখ টাকা দাবি করে ওই মহল।

সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিশপের বাসভবন এবং অফিস সংলগ্ন একটি স্কুল, ক্লিনিক এবং অন্যান্য সেবামূলক কাঠামো তৈরি করতে ২০১৩-২০১৫ অর্থবছরে মোট দুই দশমিক ৪৫ একর জমি কেনা হয়েছিল। ক্রয়ের পরে কোনো ঝামেলা না হলেও ২০১৭ সাল থেকে একদল ভূমি দস্যুর এই জমির ওপর নজর পরেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

গত সোমবার সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের অফিস ইনচার্জ ফাদার সরোজ কস্তা শাহপরান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যেখানে ১৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়। যে ১৯ জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন- শাহপরান থানার কল্লগ্রামের মৃত মোতাহার আলীর ছেলে ইছরাক আলী (৫৫), নোয়াগাও গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুল মুকিত (৫৫), খুনিরচক গ্রামের মৃত হাবিব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০), মখদ্দছ আলীর ছেলে আজিজুর রহমান (৬২), হাবিব আলীর ছেলে আলাল আহমেদ (৬৫), আব্দুন নুরের ছেলে ফারুক আহমেদ (৬৫), রহিছ আলীর ছেলে সেবুল আহমদ (৪২), আজিজুর রহমানের মেয়ে পপি বেগম (২৭), আজিজুর রহমানের স্ত্রী জলিতা বেগম (৬৫), আজিজুর রহমানের মেয়ে রাসনা বেগম (৩০), আব্দুর রহমানের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৫), সিরাজ উদ্দিন (৬০), মো. আব্দুস সোবহান (৫৫), হোসেন আহমেদ (৫০), আফতাব হোসেন (৪৫), আব্দুর রাজ্জাক (৬০), ফুলেছা বেগম (৬৫), আদিল আহমেদ (৫২) এবং আব্দুর রহমান (৭৫)।

অভিযোগের দিনই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিপটন পুরকায়স্থ বলেন, ‘২২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার পর অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের প্রধান বিশপ বিজয় এন ডি ক্রুস গত সোমবার সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে একটি চিঠি দিয়ে তাদের এবং সম্পত্তির নিরাপত্তার আবেদন করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফাদার যোসেফ গমেজ বলেন, ‘২০১৭ সালে এই জমির উপর অধিকার দাবি করে একটি মামলা দায়ের করে কয়েকজন। তারা ২০১৯ সালে জমিটির উপর নিষেধাজ্ঞার জন্যও আবেদন করেন। শাহপরান থানা তদন্ত করে ক্যাথলিক ডায়োসিসের পক্ষে রিপোর্টে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাদী পক্ষ নিষেধাজ্ঞার জন্যও আবেদন করলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ সিলেটের সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তদন্ত ভার দেন। সেই তদন্ততেও একই রিপোর্ট এলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ বাদী পক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন।’

তিনি জানান, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা জায়গা দখলের চেষ্টা করে এবং সেখানে লাগানো অনেক গাছ নষ্ট করে।

সাইনবোর্ডে দেওয়া প্রথম ফোন নম্বরে কল দিলে ইছরাক আলি বলেন, ‘এই জমিটি আমাদের মৌরসী সম্পদ।’

জমির দলিলপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর বারবার কল দিলেও তিনি ফোন আর রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন।

সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের প্রধান বিশপ বিজয় এন ডি ক্রুস বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নামে দুই দশমিক ৪৫ একর জমি সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের নামে কেনা হয়েছে। ২০১৭ সালেই তারা মামলা করে। তারপর থেকেই আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে জোরপূর্বক সাইনবোর্ড লাগাতে চেষ্টা করে। তারা সেখানে পিলারও দিতে চায়। স্থানীয়দের কারণে সেটা না পেরে তারা চারা গাছ উপড়ে ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা চায় যাতে আমরা কম্প্রোমাইজে এসে তাদের টাকা দেই। আমরা সঠিক মুল্যে যাচাই বাছাই করে জায়গা কিনেছি। তাই আমরা কোনো রকম কম্প্রোমাইজে যেতে রাজি নই। আমরা কাউকে চাঁদা দিতে চাই না।’

এমন কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে দাবি, যেন আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করে।’

যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা সেখানে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেব।’

Comments