আকাশপথে ভ্রমণ নিরাপদ মনে করছেন বাংলাদেশিরা: জরিপ

করোনাভাইরাস মহামারিতে আকাশপথে ভ্রমণ দেশে পরিবহণের সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন ভোক্তারা। ভ্রমণ ও পর্যটন প্রকাশনা দ্য বাংলাদেশ মনিটরের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারিতে আকাশপথে ভ্রমণকে দেশে পরিবহণের সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন ভোক্তারা। ভ্রমণ ও পর্যটন প্রকাশনা দ্য বাংলাদেশ মনিটরের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

এতে দেখা যায়, শতকরা ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে আকাশপথে ভ্রমণ সবচেয়ে নিরাপদ। এরপরই ২৩ দশমিক তিন শতাংশ রেলপথ পথকে নিরাপদ বিবেচনা করছেন।

উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন যাত্রীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এয়ারলাইনসগুলোর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৩৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ মনে করছেন স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করা যায়। আর, ২৮ দশমিক আট শতাংশ মনে করেন যে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত আকারে রাখা উচিত।

জরিপে দেখা যায়, ৪৯ দশমিক নয় শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন উচ্চ ব্যয় আকাশ পথে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ৩১ দশমিক চার শতাংশ এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে এবং ১৮ দশমিক সাত শতাংশ বিমানবন্দরের প্রোটোকলকে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে করা এ জরিপে তিন হাজার ৪৫২ জন ভ্রমণকারী অংশ নেন।

উত্তরদাতাদের ৮৭ শতাংশ ব্যবসায়ী, ১০ শতাংশ চাকুরীজীবী ও তিন শতাংশ শিক্ষার্থী।

৫৭ শতাংশ ভ্রমণকারী মনে করেন যে স্থানীয় এয়ারলাইনস যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে, ৩০ দশমিক সাত শতাংশ একে সন্তোষজনক বলছে এবং বাকি ১২ দশমিক তিন শতাংশ একে ততটা ভাল না বলে জানিয়েছেন।

দেশের ভেতরে আকাশপথে ভ্রমণের উদ্দেশ্য হিসাব করে দেখা যায়, ৩৫ দশমিক আট শতাংশ উত্তরদাতা কেবল এই সময়ে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করবে, বিনোদনের জন্য ৩০ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং পারিবারিক উদ্দেশ্যে ৩৩ দশমিক সাত শতাংশ।

তবে, দেশের ভেতরে আকাশপথে নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মধ্যে ৩২ দশমিক নয় শতাংশ ইতিমধ্যে ভ্রমণ করেছেন, ৪১ দশমিক ছয় শতাংশ আগামী তিন মাসের মধ্যে ভ্রমণ করবেন বলে ভাবছেন। আর, ২৫ দশমিক পাঁচ শতাংশ এই বছরের মধ্যে ভ্রমণ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে, উত্তরদাতাদের ৫৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ এই মুহূর্তে ছুটি কাটাতে ভ্রমণ করবে, ২৯ দশমিক চার শতাংশ ব্যবসায়ের জন্য ও ১৭ দশমিক এক শতাংশ চিকিত্সার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করবে।

কোভিড পরিস্থিতির শেষে ছুটি কাটাতে অবশ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যেতে চান ৫৯ দশমিক সাত শতাংশ, ইউরোপে ৩২ দশমিক এক শতাংশ ও আমেরিকাতে আট দশমিক দুই শতাংশ উত্তরদাতা।

চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চান ৩৯ দশমিক ছয় শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩১ দশমিক সাত শতাংশ ও সিঙ্গাপুরে ২৮ দশমিক সাত শতাংশ উত্তরদাতা যেতে চান।

শিগগির কোনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৭ দশমিক এক শতাংশ বলেছেন যে করোনার কার্যকর টিকা না পেলে তারা ভ্রমণ করবেন না। ৪৩ দশমিক তিন শতাংশ বলছেন যে তারা আগামী তিন মাসের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। আর, নয় দশমিক ছয় শতাংশ ইতিমধ্যে ভ্রমণ করেছেন।

বিমানের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে, ৬৮ দশমিক তিন শতাংশ অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে আগ্রহী, ২২ দশমিক চার শতাংশ গতানুগতিক এজেন্সি থেকে এবংত নয় দশমিক তিন শতাংশ সরাসরি এয়ারলাইনস থেকে টিকিট কিনতে আগ্রহী।

Comments

The Daily Star  | English

Dhaka traffic still light as offices, banks, courts reopen

After five days of Eid and Pahela Baishakh vacation, offices, courts, banks, and stock markets opened today

48m ago