নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক হত্যা: আদালতে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি তুষার।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি তুষার।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতে ওই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক আজগর হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় তুষারকে। সে আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, এখনো পলাতক আছে পাঁচ জন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির বিষয়ে আজগর হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিক ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা জানিয়েছে। তবে, এখনো বিস্তারিত জবানবন্দির নথি পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুষার জানিয়েছে জমা ক্ষোভ থেকে ইলিয়াসকে হত্যা করে। মূলত একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস ছিল সাংবাদিক ইলিয়াস ও তুষারদের। ২০১৮ সালে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে তুষারের ঝগড়া হয়। ওই সময় তুষার লাঠি দিয়ে শামীমের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হয় শামীম। এ ঘটনায় তুষারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শামীম। আর সেই মামলা করতে সাংবাদিক ইলিয়াস প্ররোচনা দিয়ে ছিল বলে ধারণা তুষারের। এ ছাড়াও, এলাকায় অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ দেওয়ায় টাকা নিয়ে তুষার, ইলিয়াস, মাসুদসহ আরও কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসবের জের ধরেই সাংবাদিক ইলিয়াসকে হত্যা করা হয়।’

‘ধারণা করা হচ্ছে আদালতে এসব কিছুই বলেছে তুষার। তবে নথি পেলে সঠিক তথ্য জানানো যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

এর আগে, গত ১২ অক্টোবর সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত রোববার রাতে বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার আদমপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুষারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সোমবার ভোরে জিওধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিন্নাত আলী ও মিসির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী ৮জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক হত্যায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

Comments

The Daily Star  | English
Unarmed student Abu Sayeed killed by police in cold blood

Why was Abu Sayed shot dead in cold blood?

Why was Abu Sayed of Rangpur's Begum Rokeya University shot down by police? He was standing alone, totally unarmed with arms stretched out, holding no weapons but a stick

38m ago