নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার ৫

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ছয় মাস পর পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ছয় মাস পর পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরীফ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘৬ মাস আগে গত ২৪ এপ্রিল প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া উজ্জ্বল রানা ও তাজেল ইসলাম মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে বিভিন্নভাবে সহযোগিতায় করে জালাল, মিন্টু হাওলাদার ও বিলকিস। লজ্জা ও আসামিদের হত্যার হুমকিতে দীর্ঘদিন চুপ ছিল কিশোরী ও তার পরিবার। কিন্তু, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানায় সে ৫ মাস ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভু্ক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পাঁচ জনের নামে অভিযোগ দেন। পরে রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে তার মা বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া, ওই কিশোরীকেও আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, আমার স্বামী রিকশা চালায়। লকডাউনের সময় মেয়েকে গ্রাম থেকে এখানে নিয়ে আসি। আমি ও আমার স্বামী দুইজন বাইরে কাজ করি। তার মধ্যে গত বুধবার মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নিয়ে দেখি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তখন মেয়ে জানায়, পাশের বাসার ভাড়াটিয়া জালাল ও বিলকিস হাওলাদার আমার মেয়েকে ডেকে তাদের রুমে নিয়ে যায়। ওই ঘরে উজ্জ্বল রানা ও তাজেল ইসলাম আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। আর বাইরে থেকে জালাল ও বিলকিস পাহারা দেয়। ওরা ভয়ভীতি দেখাতো বলে কাউকে কিছু জানায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়দিন পর মেয়েরে বিয়া দিমু কেমনে। হেরা কয় মীমাংসা করতে। আমি মীমাংসা চাই না, হেগো বিচার চাই।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ‘সন্ধ্যায় ওই কিশোরীকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার জন হলেন- উজ্জ্বল রানা (২০), তাজেল ইসলাম (১৮), মো. জালাল (২১), আব্দুল আজিজ ওরফে মিন্টু হাওলাদার (৫৫) এবং তার স্ত্রী বিলকিস হাওলাদার (৪২)।

Comments

The Daily Star  | English

DMCH doctors threaten strike after assault on colleague

A doctor at Dhaka Medical College Hospital (DMCH) was allegedly assaulted yesterday after the death of a private university student there, with some of his peers accusing the physicians of neglecting their duty in his treatment

5h ago