মতিউর রহমানসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় উদ্বেগ, ১৮ নাগরিকের বিবৃতি

রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় সম্পাদক মতিউর রহমানসহ প্রথম আলোর পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্ট নাগরিক।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় সম্পাদক মতিউর রহমানসহ প্রথম আলোর পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্ট নাগরিক।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরারের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সম্পাদক মতিউর রহমানসহ প্রথম আলোর ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা আদালত। মামলায় বিশেষ করে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযাগ গঠন আমাদের নানা কারণে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করেছে।’

তারা বলেন, ‘গত বছরের ১ নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোর আলো পত্রিকার বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান নাইমুল আবরার। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। তবে সেটি প্রথম আলোর অনুষ্ঠান ছিল না। ছিল প্রথম আলোর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি। প্রথম আলো সম্পাদক সে অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন না। দুর্ঘটনার পর নাইমুল আবরারের বাবা মুজিবুর রহমান থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। এরপর তিনি আদালতে আলাদাভাবে আরেকটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সাবেক মন্ত্রপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন (অব.), অভিনেতা, নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক মামুনুর রশীদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, লেখক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা মনে করি, দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একের পর এক যেসব আঘাত আসছে এবং অতীতে মতিউর রহমানসহ দেশের মুক্তচিন্তার বরেণ্য সম্পাদকদের বিরুদ্ধে যে যেসব হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, সেগুলো থেকে এই মামলাটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আমরা এই মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকসহ সব অভিযুক্তের পরিপূর্ণ আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকার অবারিত রাখার দাবি জানাচ্ছি।

এ ধরনের মামলা সম্পাদক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা জানান তারা। এ ধরনের প্রচেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

Comments

The Daily Star  | English

How Lucky got so lucky!

Laila Kaniz Lucky is the upazila parishad chairman of Narsingdi’s Raipura and a retired teacher of a government college.

4h ago