স্কুল দূরে চলে যাচ্ছে তাই...

কুড়িগ্রামের চিলমারী ইউনিয়ন এলাকার দুর্গম চর মনতলা বন্যা পরবর্তী ভাঙনে সম্পূর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে চলে গেছে। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি তিন কিলোমিটার দূরে চর শাখাহাতিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Kurigram_Char_Mantala_12Dec.jpg
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হারিয়ে গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী ইউনিয়নের চর মনতলা। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিষণ্ন মুখে বসে আছে চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাদ্দাম হোসেন ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মনির ইসলাম। ছবি: স্টার

কুড়িগ্রামের চিলমারী ইউনিয়ন এলাকার দুর্গম চর মনতলা বন্যা পরবর্তী ভাঙনে সম্পূর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে চলে গেছে। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি তিন কিলোমিটার দূরে চর শাখাহাতিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাদ্দাম হোসেন ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মনির ইসলামকে ব্রহ্মপুত্রে পাড়ে বিষণ্ন মুখে বসে থাকতে দেখা যায়। স্কুল দূরে চলে যাওয়ায় তাদের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মনির ইসলামের বাবা নেছার আলী বলেন, ‘এত দূরে ছেলে-মেয়েদের পাঠানো নিরাপদ হবে না। বিদ্যালয়টি কাছাকাছি পুনঃস্থাপন করা হলে ছেলে-মেয়েরা পড়তে পারতো।’

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য সঞ্জু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চর শাখাহাতিতে আরও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। চর মনতলা থেকে স্কুল সরিয়ে নিলে এখানকার শিশুরা শিক্ষাবঞ্চিত হবে। ভাঙনের পরে এই চরের অধিকাংশ মানুষ চর বিসারপাড়া ও চর কড়াই বরিশালে আশ্রয় নিয়েছে। চর মনতলায় ১২৮টি পরিবার বসবাস করতো।

চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপেন্দ্র নাথ দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে মোট ৭৫ শিক্ষার্থী ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি কাছাকাছি কোনো এলাকায় পুনঃস্থাপন হওয়ার কথা কিন্তু কর্তৃপক্ষ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।’

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গয়ছুল আলম মন্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চর মনতলার অধিকাংশ বাসিন্দা চর শাখাহাতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।’

চিলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চর মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কাছাকাছি পুনঃস্থাপনের সুযোগ নেই। কারণ ওই অংশ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। চর মনতলার বাসিন্দারা বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ছেলে মেয়েরা সংশ্লিষ্ট চরের স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ পাবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চর মনতলার কাছাকাছি চর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন চর শাখাহাতিতে স্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

Comments