আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে জলকামান, গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের অন্যতম বড় শহর মান্দালেতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ থেকে এক সাংবাদিকসহ ২৭ জনেরও বেশি প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
Myanmar protest
মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের অন্যতম বড় শহর মান্দালেতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ থেকে এক সাংবাদিকসহ ২৭ জনেরও বেশি প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

এছাড়াও, দেশটির রাজধানী নেপিডো ও সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনেও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। তবে সেখান থেকে কাউকে গ্রেপ্তারের সংবাদ এখনো জানা যায়নি।

আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

নাইপিদো, ইয়াঙ্গুন ও মান্দালেতে জান্তা সরকারের কারফিউ ভেঙ্গে একনায়কতন্ত্রবিরোধী মিছিল হয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, গত চার দিন ধরে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসগুলোতেও বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেপিডোতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ নাইপিদোর মিছিলে ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়েছে।

মান্দালে শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে পুলিশ এক স্থানীয় সাংবাদিকসহ ২৭ জনকে আটক করেছে বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তরুণ আন্দোলনকর্মীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মং সাউংখা বলেছেন, ‘একনায়কতন্ত্রের পতন ও রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

ছবি: রয়টার্স

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, নেপিডো শান্তিপূর্ণ এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করছে মিয়ানমার পুলিশ। এছাড়াও, দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে একটি প্রতিবাদ মিছিলেও জলকামান ব্যবহার ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

আন্দোলনকর্মীরা সংবিধান পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীকে ভেটো দেওয়ার যে ক্ষমতা সংবিধানে আছে তা বিলুপ্ত করে জাতিগতভাবে বিভক্ত মিয়ানমারে ফেডারেল ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

মিয়ানমারজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদ করার পর একনায়কতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন থামাতে চার জনের বেশি একত্র হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জান্তা সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুন ও মান্দালে শহরে স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের কেন্দ্রীয় অংশের সঙ্গে জনবহুল এলাকাগুলোকে সংযুক্তকারী সেতুগুলো আজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা খিন মিন সো রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের চিন্তায় সারাক্ষণই অভ্যুত্থানের ঘটনা চলে আসে। আমরা যখনই খেতে বসি, কাজে যাই, এমনকি বিশ্রামের সময়েও আমাদের মাথায় এটা ঘোরে। যখনই আমরা চিন্তা করি কেন আমাদের সঙ্গে আবারও এমনটা ঘটলো তখন আমরা খুব হতাশ হই, আমাদের কষ্ট হয়।’

ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে ভাষণ দেন সামরিক নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং। কোনো প্রমাণ ছাড়াই গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে মিয়ানমারে একটি নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

গত নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ব্যাপক জয় পেয়েছিল। সেই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউএসডিপির ভরাডুবি হয়। এরপর, সেনাবাহিনী নির্বাচনে ‘কারচুপি’র অভিযোগ তোলে।

আরও পড়ুন:

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করল নিউজিল্যান্ড

মিয়ানমারের আকাশসীমায় নিরাপদ উড়োজাহাজ পরিচালনায় সহায়তা করছে বাংলাদেশ: বেবিচক

ভোট কারচুপি করে জিতেছিলেন সু চি: মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

মিয়ানমার: ১৯৪৮ থেকে ২০২১

অভ্যুত্থান মেনে না নেওয়ার আহ্বান সু চির

যে কারণে সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা নিলো সেনাবাহিনী

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দায় বিশ্ব সম্প্রদায়

‘নির্বাচনে কারচুপি’র অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান

মিয়ানমারে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, সু চি আটক

Comments