সুয়ারেজ-ভিয়াদের অভাবেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় বার্সার!

গত ২৫ বছরে বার্সার নম্বর নাইন হিসেবে খেলে গেছেন দাভিদ ভিয়া, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, স্যামুয়েল ইতো, প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট ও রোনালদো নাজারিওর মতো তারকা ফুটবলাররা। সেখানে বর্তমানে নম্বর নাইন হিসেবে খেলছেন মার্টিন ব্র্যাথওয়েট, যার কি-না একাদশেই জায়গা হয় না!
ফাইল ছবি: এএফপি

এই তো গত মৌসুমেও বার্সেলোনার স্ট্রাইকার বা নম্বর নাইন হিসেবে খেলতেন লুইস সুয়ারেজ। যিনি কি-না দলটির ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ঠিকানা বদলে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েও এখন লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফির অন্যতম দাবীদার। গত ২৫ বছরে বার্সার নম্বর নাইন হিসেবে খেলে গেছেন দাভিদ ভিয়া, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, স্যামুয়েল ইতো, প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট ও রোনালদো নাজারিওর মতো তারকা ফুটবলাররা। সেখানে বর্তমানে নম্বর নাইন হিসেবে খেলছেন মার্টিন ব্র্যাথওয়েট, যার কি-না একাদশেই জায়গা হয় না!

হুট করে সাবেক এ তারকাদের কথা উঠে আসার কারণ একটাই। আগের দিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে বার্সেলোনা। দলটিতে খেলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। দারুণ ছন্দেও আছেন তিনি। কিন্তু তারপরও কেন এমন বিদায়? স্বাভাবিকভাবেই দলটির ব্যর্থতা নিয়ে চলছে কাঁটাছেঁড়া।

শেষ ষোলোর ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষে আগের লেগে ঘরের মাঠে বিপর্যস্ত হয়ে ১-৪ গোলে পিছিয়ে ছিল বার্সা। দারুণ কিছু করার আশায় প্যারিসে গিয়েছিল তারা। কিন্তু ১-১ সমতায় শেষ হয় ফিরতি লেগ। তাতে বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। কিন্তু ম্যাচে ভুরিভুরি সুযোগ পেয়েছিল দলটি। প্রথমার্ধে তো একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে তারা। ২১টি শট নেয় দলটি। যার মধ্যে লক্ষ্যেই ছিল দশটি। কিন্তু তারা গোল পায় মাত্র একটি। অথচ প্রথম লেগে এর চেয়ে অনেক কম সুযোগ পেয়েও ন্যু ক্যাম্পে চারটি গোল দিয়ে আসে পিএসজি।

সবচেয়ে বড় কথা, বেশ কিছু সহজ সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। কিন্তু ভালো ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি তারা। তাতে প্রকট হয়ে ওঠে একজন প্রতিষ্ঠিত নম্বর নাইনের অভাব। স্বাভাবিকভাবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে এ প্রসঙ্গ। একজন ভালো মানের স্ট্রাইকারের অভাবের কারণেই কি কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে ব্যর্থ হয় বার্সেলোনা? প্রশ্ন করা হয় কোচ রোনাল্ড কোমানকে।

উত্তরে কোমান বলেছেন, ‘এটা সত্যি। তবে আজকের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এতো বেশি সুযোগ তৈরি করাও স্বাভাবিক নয়। আমরা ঝুঁকি নিয়েছি, আমাদের একে একে প্রতিরক্ষা করতে হবে। আমার মনে হয় আজ বল ছাড়াও আমাদের খেলা ছিল অসাধারণ। আমাদের আরও ভালো ফিনিশিং দেওয়া দরকার। এটাই আমাদের মধ্যে পার্থক্য। (ক্যাম্প ন্যুতে) এরচেয়ে অনেক কম সুযোগ পেয়েও তারা আরও বেশি গোল করেছে।’

ফরোয়ার্ডের এমন ভুরিভুরি মিসে আফসোসও ঝরে কোমানের কণ্ঠে। আরও কিছু গোল পেতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি, ‘আমরা বিদায় নিয়েছি, তবে আমরা (নিজের সম্পর্কে) ভালো লাগা নিয়ে ছেড়ে চলেছি। প্রতিপক্ষকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলার সম্ভাবনা আমাদের ছিল। প্রথমার্ধে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। অসাধারণ মনোভাবের সঙ্গে উন্নত ছিলাম। আমরা আরও প্রাপ্য ছিলাম। প্রথমার্ধে কমপক্ষে একটি ২-১ হওয়া উচিত ছিল। যা আমাদের সমস্ত পার্থক্য করে দেয়।’

Comments

The Daily Star  | English