বৃষ্টিতে আবার খেলা বন্ধের আগে ফিলিপস-মিচেলের তাণ্ডব

এই প্রতিবেদন লেখার সময়, ১৭.৫ ওভারে স্বাগতিকদের রান ৫ উইকেটে ১৭৩।
glenn phillips
ছবি: টুইটার

বৃষ্টির কারণে আরেক দফায় বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। খেলোয়াড়-আম্পায়াররা মাঠ ছাড়ার আগে টাইগার বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান দুই কিউই ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেল।

মঙ্গলবার নেপিয়ারে চলছে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। এই প্রতিবেদন লেখার সময়, ১৭.৫ ওভারে স্বাগতিকদের রান ৫ উইকেটে ১৭৩। ৩১ বলে ৫৮ রান নিয়ে উইকেটে আছেন ফিলিপস। ১৬ বলে ৩৪ রান নিয়ে খেলছেন মিচেল। তাদের ষষ্ঠ উইকেট জুটির রান মাত্র ২৭ বলে ৬২!

ম্যাকলিন পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। তাদের সংগ্রহ যখন ১২.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১০২ রান, তখন প্রথম দফায় বৃষ্টির হানায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। প্রায় ২৫ মিনিট বিরতির পর আবার মাঠে নামে দুদল। সেসময় কোনো ওভার কাটা পড়েনি।

খেলা শুরুর পরপরই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন শেখ মেহেদী হাসান। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে মার্ক চ্যাপম্যানকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন তিনি। চতুর্দশ ওভারে ১১১ রানে পতন হয় কিউইদের পঞ্চম উইকেটের। এরপর তাদেরকে চেপে ধরতে পারেনি সফরকারীরা। উল্টো এলোমেলো বোলিংয়ে বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শঙ্কায় তারা।

ফিলিপস ২৭ বলে পৌঁছে যান হাফসেঞ্চুরিতে। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি, সেঞ্চুরি আছে একটি। জুটির পঞ্চাশ আসে মাত্র ২৩ বলে। শুরুতে দেখেশুনে খেলা মিচেলও পরে আগ্রাসনে যোগ দেন ফিলিপসের সঙ্গে। দুজনে মিলে হাঁকিয়েছেন ১১ চার ও ২ ছক্কা।

এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারে নাসুম আহমেদকে একটি করে চার মেরে স্বাগত জানান মার্টিন গাপটিল ও ফিন অ্যালেন। ৩ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ২০ রান। চতুর্থ ওভারে তাসকিন আহমেদ আক্রমণে এসেই হজম করেন ছক্কা। দ্বিতীয় বলে অবশ্য অ্যালেনকে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু উঁচুতে ওঠা ক্যাচ মাহমুদউল্লাহর হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।

taskin nz
ছবি: টুইটার

তাসকিনের চতুর্থ ডেলিভারিতে আবার ছক্কা। এবারে গাপটিল বল সীমানাছাড়া করেন। তবে খরুচে ওই ওভারেই আসে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য। অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগ সাইডে হাঁকাতে গিয়ে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি অ্যালেন। স্কয়ার লেগে নাঈম শেখের তালুবন্দি হন তিনি।

পাওয়ার প্লের শেষ বলে সাজঘরে ফেরেন গাপটিল। গোটা সিরিজে যে তাসকিনের বলে অনেকগুলো ক্যাচ পড়েছে, সেই তিনিই নেন অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ। ফাইন লেগে বল হাতে জমিয়ে এই দীর্ঘদেহী পেসার নিজেও বিস্মিত হয়ে যান! মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে আউট হয়ে গাপটিলের মুখেও ফুটে ওঠে হাসি। ৬ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৫৫।

পরের বলেই বিপজ্জনক ডেভন কনওয়েকে আউট করেন শরিফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের স্বাদ নেন এই বাঁহাতি পেসার। শুরু থেকেই বাড়তি বাউন্স পাওয়া শরিফুলকে খেলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল কনওয়ের। বড় শটে চাপ আলগা করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর কিউইরা পায় ৩৯ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙে উইল ইয়াং মেহেদীর করা দ্বাদশ ওভারে স্টাম্পড হয়ে ফিরলে। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে আত্মাহুতি দেন তিনি। ওই ওভারের শেষ বলে ছয় মেরে নিউজিল্যান্ডের স্কোর একশ পার করেন ফিলিপস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ১৭.৫ ওভারে ১৭৩/৫ (গাপটিল ২১, অ্যালেন ১৭, কনওয়ে ১৫, ইয়ং ১৪, ফিলিপস ৫৮*, চ্যাপম্যান ৭, মিচেল ৩৪*; নাসুম ০/২৫, সাইফউদ্দিন ১/৩৫, তাসকিন ১/৪৯, শরিফুল ১/১৬, মেহেদী ২/৪৫)।

Comments

The Daily Star  | English

'Will not spare anyone if attacked'

Quader vows response if any Bangladeshi harmed by Myanmar firing tensions

41m ago