সাজঘরে লিটন-সাকিব, বাংলাদেশের রানের গতি মন্থর

১৭ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫৮ রান।
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

ওয়ানডেতে বাজে সময় পার করতে থাকা লিটন মারলেন ডাক। তিনে উঠে আসা সাকিব আল হাসান উইকেটে অনেকটা সময় কাটিয়ে হাঁসফাঁস করে বিদায় নিলেন টাইমিংয়ে গড়বড় করে। থিতু হয়ে যাওয়া তামিম ইকবাল খেলছেন স্বভাবসুলভ ঢঙে। ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের রান তোলার গতি খুবই মন্থর।

রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিকরা। এই প্রতিবেদন লেখার সময়, ১৭ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫৮ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক তামিম ৫০ বলে ৩০ ও মুশফিকুর রহিম ১৫ বলে ৯ রানে।

দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার লিটনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সম্প্রতি রানের জন্য ধুঁকতে থাকা এই ব্যাটসম্যান আরও একবার হন ব্যর্থ। পেসার দুশমন্থ চামিরার অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে তিনি ক্যাচ দেন স্লিপে। ধনঞ্জয়া ডা সিলভা বল তালুবন্দি করতে ভুল করেননি।

৩ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন। ৪৩ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এটি তার সপ্তম শূন্য। আর সবশেষ সাত ইনিংসে তৃতীয়। দলীয় ৫ রানে তার বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার তামিম ও সাকিব। আস্থার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তামিম। দর্শনীয় শটে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকালেও তার স্ট্রাইক রেট বরাবরের মতো কম।

liton and chameera
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

সাকিব প্রথম থেকেই ছন্দের অভাবে ভুগছিলেন। ব্যাটে-বলে তার সংযোগ হচ্ছিল না ঠিকমতো। শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ ওভারে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফেরেন সাজঘরে। অফ স্পিনার দানুস্কা গুনাথিলাকার ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দেন তিনি। পাথুম নিসানকা অনায়াসে বল লুফে নেন।

সাকিব করেন ৩৪ বলে ১৫ রান। তার ইনিংসে বাউন্ডারি ২টি। আউট হওয়ার আগে তামিমের সঙ্গে ৬৪ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৪০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এরপর রানের চাকা হয়েছে আরও শ্লথ। ৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করেছে মোটে ১৮ রান। দলীয় সংগ্রহ ৫০ পেরোয় ১৩.৫ ওভারে।

উইকেট থেকে বেশ বাউন্স মিলেছে শুরুতে। সুইংও পেয়েছেন দুই লঙ্কান পেসার ইসুরু উদানা ও চামিরা। ইতোমধ্যে তিন স্পিনারকে ব্যবহার করিয়েছেন সফরকারী অধিনায়ক কুসল পেরেরা।

এর আগে শ্রীলঙ্কা দলে করোনাভাইরাসের হানায় ম্যাচ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে তা কাটিয়ে মাঠে গড়িয়েছে খেলা। কারণ, একজন খেলোয়াড় করোনা পজিটিভ থাকলে আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী খেলা চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই।

আগের দিন লঙ্কান দলের তিন জন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভ হন। তারা হলেন দুই ক্রিকেটার ইসুরু উদানা ও শিরান ফার্নান্দো আর বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস। তবে দ্বিতীয় পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন দুই জন। ফের পজিটিভ আসায় পেসার শিরানকে রাখা হয়েছে আইসোলেশনে।

Comments