প্রবাসে

কাতারে করোনার বিধি-নিষেধ শিথিলের প্রথম ধাপ শুরু

কাতারে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিধি-নিষেধ শিথিলের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চার ধাপে বিধি-নিষেধগুলো প্রত্যাহার করা হবে এবং তিন সপ্তাহ পর পর ধাপগুলো শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৮ জুন, তৃতীয় ৯ জুলাই এবং শেষ ধাপ ৩০ জুলাই শুরু হওয়ার পরিকল্পনা আছে।
কাতারের দোহায় করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর শিশুদের খেলার মাঠের সাধারণ দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

কাতারে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিধি-নিষেধ শিথিলের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চার ধাপে বিধি-নিষেধগুলো প্রত্যাহার করা হবে এবং তিন সপ্তাহ পর পর ধাপগুলো শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৮ জুন, তৃতীয় ৯ জুলাই এবং শেষ ধাপ ৩০ জুলাই শুরু হওয়ার পরিকল্পনা আছে।

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে সাপ্তাহিক ছুটিতে দোহা মেট্রো পরিষেবা, রেস্তোরাঁ, সেলুন, জিম, সুইমিং পুল, যাদুঘর এবং লাইব্রেরি ইত্যাদি শর্ত সাপেক্ষে পুনরায় চালু করার অনুমতিসহ অনেকে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। সব ধরনের সুবিধায় করোনার টিকার দুই ডোজ নেওয়া নাগরিক ও প্রবাসীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের মোট সংখ্যক কর্মচারীর সর্বাধিক ৫০ শতাংশ অফিস থেকে কাজ করার অনুমতি আছে। সামরিক, সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে এ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রের ব্যবসায়িক সভা টিকার উভয় ডোজ দেওয়া সর্বোচ্চ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনসহ ৩০ শতাংশ ক্ষমতায় গণপরিবহন এবং দোহা মেট্রো পরিষেবা চলবে। মেট্রোতে কেবল এহতেরাজ অ্যাপে গ্রিন স্ট্যাটাসযুক্তদের মাস্ক পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং ধূমপান জোন বন্ধ এবং খাবার ও পানীয় গ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে। করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের বিস্তার রোধে গত এপ্রিল থেকে দোহা মেট্রো সাপ্তাহিক ছুটিতে পরিষেবাগুলি স্থগিত করে। বাকি দিনগুলিতে ২০ শতাংশ ধারণ ক্ষমতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিল।

একই বাড়ির পরিবারের সদস্যদের জন্য ভাড়া পরিষেবা বাদে নৌকা, ট্যুরিস্ট ইয়ট এবং আনন্দ ভ্রমণের নৌকাগুলি বন্ধ থাকবে। ভাড়া নৌকায় একই পরিবারের সদস্য কিংবা একই পরিবারের সদস্য নন এমন ১০ জন চড়তে পারবেন। তবে যাত্রী এবং নৌকার সকল কর্মীর দুই ডোজ টিকা নেওয়ার শর্ত রয়েছে। ১০ জনের মধ্যে টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেনি বা ডোজ পাননি এমন দু’জনের উপস্থিতির অনুমতি রয়েছে।

বাইরে সর্বোচ্চ ১০ জন করোনার টিকা নেওয়া ব্যক্তির জন্য সামাজিক জমায়েত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে (৫ জন টিকা না নেওয়া হতে পারে)। টিকা না নেওয়া সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি বাইরে জড়ো হতে পারবে।

সব নাগরিক ও প্রবাসীদের যে কোনো প্রয়োজনে বাসা থেকে বেরোনোর সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং প্রত্যেককে অবশ্যই তাদের স্মার্টফোনে এহতেরাজ অ্যাপটি সক্রিয় করতে হবে। কোনো গাড়িতে একই পরিবারের সদস্য বাদে ড্রাইভারসহ চারজনের বেশি যাত্রী রাখার অনুমতি নেই।

রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের জন্য ৩০ ক্ষমতায় আউটডোর ডাইনিং এবং কাতারের ক্লিন সার্টিফিকেশনে থাকা রেস্তোরাঁগুলো ৩০ শতাংশ ইনডোর (কেবলমাত্র টিকা নেওয়া গ্রাহকদের জন্য) ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। বিউটি সেলুন এবং নাপিতের দোকানে তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ উপস্থিতিতে কাজ করতে পারবে। তবে, শর্ত থাকে যে সকল কর্মী শ্রমিক এবং গ্রাহকরা টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ক্লাব, জিম, ম্যাসেজ পরিষেবা, সোনাস, বাষ্প এবং জ্যাকুজি পরিষেবা এবং মরোক্কান এবং তুর্কি বাথ খোলা থাকবে, যদি কর্মী এবং গ্রাহকদের পুরোপুরি টিকা দেওয়া থাকে।

প্রতিদিন ওয়াক্তের নামাজ ও শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য মসজিদ খোলা থাকবে। তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশের অনুমতি নেই। এছাড়া বাথরুম এবং অজু সুবিধা বন্ধ রাখাসহ জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সতর্কতামূলক উদ্যোগগুলো মেনে চলতে হবে।

বন্ধ বা খোলা জায়গাতে পেশাদার খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। খোলা জায়গায় দর্শকদের উপস্থিতি ছাড়া স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর জন্য প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং সর্বাধিক ১০ জন অপেশাদার বা শৌখিন খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে টিকা নেওয়া ৩০ শতাংশ দর্শকের উপস্থিতিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আয়োজন করা যাবে।

সরকারি পার্ক, সৈকত এবং কর্নিচে একসঙ্গে সর্বাধিক পাঁচ ব্যক্তি বা একই বাসায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কড়াকড়ি, টিকাদানের হার বৃদ্ধি এবং জনগণের সমর্থনের ফলে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে, দ্বিতীয় তরঙ্গ এখনো শেষ না হওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি। এখনো ভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক নতুন স্ট্রেইন জনগোষ্ঠীতে সক্রিয়ভাবে ঘুরছে। তাই পরবর্তী ধাপগুলোর বাস্তবায়ন মহামারি সূচকের ওপর নির্ভর করবে।

Comments

The Daily Star  | English

‘Ekush’ taught us not to bow down: PM

Prime Minister and Awami League (AL) President Sheikh Hasina today said that Bangladesh is moving forward with the ideals taught by the great Language Movement of 1952

58m ago