শামীম পাটোয়ারির অলরাউন্ড দ্যুতি, বিধ্বস্ত মাহমুদউল্লাহরা

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার রাতের ম্যাচ হয়েছে একবারে একপেশে। আগে ব্যাট করে দোলেশ্বরের ১৪৪ রানের জবাবে মাত্র ১০৮ রান করতে পেরেছে তারকায় ভরা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ম্যাচ হেরেছে ৩৬ রানের বড় ব্যবধানে।
shamim patwary
মুমিনুল হককে বোল্ড করে শামীম পাটোয়ারির উল্লাস। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

মন্থর উইকেটে ইতিবাচক ধরণ নিয়ে নামা প্রাইম দোলেশ্বরের ইনিংস টানলেন সাইফ হাসান, ফজলে মাহমুদ রাব্বিরা। শেষ দিকে কার্যকরী ঝড়ে দলকে দেড়শোর কিনারে নিয়ে গেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। পরে বল হাতেও এই তরুণকে পাওয়া গেল অগ্রণী ভূমিকায়। রান তাড়ায় রীতিমতো বিধ্বস্ত হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার রাতের ম্যাচ হয়েছে একবারে একপেশে। আগে ব্যাট করে দোলেশ্বরের ১৪৪ রানের জবাবে মাত্র  ১০৮  রান করতে পেরেছে তারকায় ভরা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ম্যাচ হেরেছে  ৩৬  রানের বড় ব্যবধানে।

দোলেশ্বরের জয়ে অবদান অনেকের। তবে তারমধ্যেও নিজেকে আলাদা করেছেন শামীম। ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ২৫ রান করার পর ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তুলেছেন ২ উইকেট।

১৪৫ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই শামীমের ছোবলে পড়ে গাজী। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শাহাদাত হোসেনকে ফিরিয়ে দেন এই অফ স্পিনার। পরের ওভারে আরেক অফ স্পিনার শরিফুল্লাহর বলে ব্যর্থতা টেনে সৌম্য সরকার আউট হন ৯ রান করে। এক বল পরই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বোল্ড হয়ে যান।

২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়া গাজী আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পাওয়ার প্লের শেষ হওয়ার পরই আগের ম্যাচে ফিফটি করা মুমিনুল হককে বোল্ড করে দেন শামীম।

জাকির হাসান নেমে ১২ বলে ১৪ করে বিদায় নিলে ৪৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। ছয়ে নামা আরিফুল হক এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু ম্যাচ জেতানোর মতো কোন অ্যাপ্রোচ ছিল না তার, বল ঠেকিয়ে ম্যাচ কেবল প্রলম্বিত করেছেন তিনি।

অন্য প্রান্তে তখন আকবর আলি, শেখ মেহেদী হাসানকে পর পর ফিরিয়ে গাজীর সকল সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছেন এনামুল হক জুনিয়র। কোনরকমে তিন অঙ্ক পার হয়ে ফুরোয় তাদের এগিয়ে চলা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় দোলেশ্বর। ইমরানুজ্জামান ঝড় তুলার আভাস দিয়েই ফিরে যান ৮ বলে ১০ রান করে। তৌফিক খানকে নিয়ে পাওয়ার প্লে কাটিয়ে ৪৬ রান আনেন সাইফ। ১৭ বলে ১৫ করে নাসুম আহমেদের বলে আউট হন তৌফিক।

তৃতীয় উইকেটে সাইফের সঙ্গে জুটি পান ফজলে রাব্বি। দুজনে মিলে আনেন ৬৫ রান। সাইফ ছিলেন কিছুটা ঢিমেতালে। রাব্বির রান এনেছেন তুলনামূলক দ্রুত। উইকেটের পরিস্থিতির সাপেক্ষে তাদের জুটিতে জুতসই পুঁজির ভিত হয়ে যায় দোলেশ্বরের। দুজনকেই আউট করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৭ বলে ৩৭ করে যান সাইফ। ৩১ বলে ৩৯ করে বিদায় নেন রাব্বি।

এরপর দোলেশ্বরের রানটা বেড়েছে মূলত শামীমের ঝাঁজে। দ্রুত রান আনার জন্য পরিচিত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৩ চারে ১৮ বলে করেন ২৫। মিরপুরের মাঠের ধীরগতির উইকেটে তার দল তাতে পেয়ে যায় নিরাপদ পুঁজি।

লিগে তিন ম্যাচে দুই জয় আর বৃষ্টির ভেস্তে যাওয়া ম্যাচের পয়েন্টসহ পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে দোলেশ্বর। সমান ম্যাচে দুই হার এক জয়ে গাজীর সংগ্রহ দুই পয়েন্ট।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Comments