ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: অভিযুক্ত হেফাজত নেতা সাজিদুর রহমান, মোবারক উল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়ে বহু কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত দুই নেতা-- মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মুফতি মোবারক উল্লাহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
মাওলানা সাজিদুর রহমান (বামে) ও মুফতি মোবারক উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়ে বহু কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকারী হিসেবে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত দুই নেতা-- মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মুফতি মোবারক উল্লাহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

গতকাল সোমবার ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত এই কমিটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানকে একই পদে পুনর্বহাল ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রথম সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

মাওলানা সাজিদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও মুফতি মোবারক উল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহুল আলোচিত উগ্রপন্থি আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত শহরের কান্দিপাড়া এলাকার আল জামিয়া আল ইসলামিয়া আল ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

এ দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের জেলা শাখার নেতাকর্মীসহ অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা এই দুই হেফাজত নেতাকে ২৮ মার্চের পর থেকেই গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সাজিদুর ও মোবারক উল্লাহ অনেকটা ‘আত্মগোপনে’ রয়েছেন। তবে গত সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের ৩৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় মাওলানা সাজিদুর রহমানকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এই দুই হেফাজত নেতাসহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে গত ১ মে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এজাহার দায়ের করেছেন। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা এজাহারটিকে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছে।

এ ছাড়া বিগত সময়ে জেলা ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও স্থানীয় সন্ত্রাসবিরোধী মঞ্চসহ অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এই দুই নেতাসহ তাণ্ডবে জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা তিন দিন হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কয়েকটি স্থানে তাণ্ডব চালিয়ে বহু কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পদ নষ্ট করা হয়।

সহিংসতার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দায়ের হওয়া ৫৬টি মামলায় ৫৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English

Through the lens of Rafiqul Islam

National Professor Rafiqul Islam’s profound contribution to documenting the Language Movement in Bangladesh was the culmination of a lifelong passion for photography.

19h ago